বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষার কথা উঠলে সবার আগে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাম চলে আসে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি, সিএনএন এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এই দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার যে কঠোর রূপ ফুটে ওঠে, তা সত্যিই রোমহর্ষক।
বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চীনের কুখ্যাত ‘গাওকাও’ পরীক্ষার কথা, যেখানে তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের একমাত্র মোক্ষ হিসেবে দেখে এই একটিমাত্র পরীক্ষাকে। সাফল্যের আশায় তারা বছরের পর বছর ধরে দিনে ১২ থেকে চৌদ্দ ঘণ্টা পর্যন্ত বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকে, কারণ তাদের সমাজ ও পরিবার বিশ্বাস করে যে এই একটি পরীক্ষাই ঠিক করে দেবে তাদের পুরো ভবিষ্যৎ।
অন্যদিকে, সিএনএন এবং দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সুনেওং’ পরীক্ষাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম নিষ্ঠুর একাডেমিক যুদ্ধ হিসেবে। এই পরীক্ষার দিন পুরো দক্ষিণ কোরিয়া যেন থমকে দাঁড়ায়। পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছাতে ট্রাফিকের গতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়, এমনকি পরীক্ষার সময় ইংরেজি শোনার পরীক্ষা চলাকালীন বিমান চলাচল পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয় যাতে বিন্দুমাত্র শব্দও পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই দুই দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শৈশব ও কৈশোর কেটে যায় তীব্র মানসিক চাপ, রাত জাগা পড়াশোনা আর অফুরন্ত কোচিংয়ের যাতাকলে। সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার এই ইঁদুরদৌড়ে টিকে থাকতে গিয়ে তারা যে ধকল স্যায়, তা এই পরীক্ষাগুলোকে কেবল মেধা যাচাইয়ের মাধ্যম নয়, বরং এক চরম জীবনসংগ্রামে পরিণত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বারবার এই নির্মম সত্যটিই তুলে ধরেছে যে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই পরীক্ষাগুলো কেবল খাতা-কলমের লড়াই নয়, বরং এটি এক অভূতপূর্ব মানসিক ধৈর্যের পরীক্ষা, যা বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না।
সূত্র: যুগান্তর