শিরোনাম
◈ ভিসা ব্যবস্থায় সংস্কার, বাড়ল শ্রেণি; নতুন নীতিমালা অনুমোদন ◈ বিদেশে শিক্ষার খরচ মেটাতে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ ◈ সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের’ সম্মাননা প্রদান করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ মা‌ঠে জিসান ঝড়, মালয়েশিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করলো এইচপি ◈ বাংলা‌দেশ যুব দলের ইং‌লিশ কোচ জেরার্ডের ঘটনায় ব্রিবত বাফুফে ◈ আগামী ১২ আগস্ট বুধবার যেসব অঞ্চল থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধ, বাড়ল জরিমানা: আচরণবিধি চূড়ান্ত ইসির ◈ আগামী ন‌ভেম্ব‌রে চার জাতির ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে ইরাক ◈ ক্রিশ্চিয়া‌নো রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে ম‌নে ক‌রে গির্জায় মানু‌ষের ভিড়, এরপর যা হলো ◈ সৌদি আরবের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রকাশিত : ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৫ বিকাল
আপডেট : ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধ, বাড়ল জরিমানা: আচরণবিধি চূড়ান্ত ইসির

স্থানীয় সরকারের নির্দলীয় প্রতীকে করতে একগুচ্ছ সংশোধনী এনে আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করে ভেটিং করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল আর বিলবোর্ড কি সাইজের হবে তা নির্ধারিত করে দিয়েছে।

আগামী স্থানীয় সরকারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ-পাঁচ আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহেমদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের ৫ স্তরের নির্বাচনের আচরণবিধি ইসির অনুমোদন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।’

গত জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন পাসের পরে আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় ইসি। এরপর গত জুনে আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়, এ নিয়ে মতামত নেওয়াও হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জন্য এবার নতুন করে নির্বাচন আচরণ বিধিমালা হচ্ছে।

সচিব জানান, খসড়া যেভাবে প্রকাশ হয়েছিল, প্রায় একই রকম রাখা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শব্দগত পরিমার্জন-সংযোজন হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পোস্টার বাদ দিয়ে প্রচারণার বাকি বিষয়গুলো রাখা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও এআই এর অপব্যবহার রোধে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ সব নির্বাচনে পোস্টার বাদ দিয়ে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি প্রথমবারে মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ইউপি ভোটে প্রতি ওয়ার্ডে নির্ধারিত পরিমাপে একটি করে; উপজেলা ভোটে সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদে প্রতি থানা/উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদের সংজ্ঞায় অন্যদের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সিটি, উপজেলা, পৌর, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে প্রচারণায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর অপব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণার খরচও দেখাতে হবে নির্বাচনী ব্যয়ে। আচরণবিধি লঙ্ঘনে জরিমানা বাড়িয়ে সবক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

মাইকে প্রচারের সময় বেলা ১২ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ভোটের সময় নির্বাচন পরিচালনা কাজে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সার্কিট হাইজ, রেস্ট হাইজ ও ডাক বাংলো ব্যবহারে অগ্রাধিকারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে সব আচরণবিধিতে।

নির্বাচনে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি বিলবোর্ডের আকার-আয়তন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রচার সামগ্রী হবে সাদাকালো রঙের। ভোটের প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী—
ব্যানারের সর্বোচ্চ আয়তন ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট, হ্যান্ডবিল এ ফোর সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি বাই ১১.৬৯ ইঞ্চি)। ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ড এর আয়তন সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুটের মধ্যে হতে হবে। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা ৬ ফুটের বেশি নয়।

জীবন্ত প্রাণী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না। ফেস্টুন, হ্যান্ডবিলে মুদ্রণের তারিখবিহীন, পলিথিনের আবরণ, পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর নিজের ছবি, প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু থাকবে না প্রচার সামগ্রীতে।

২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে এবার নতুন করে ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালা হচ্ছে। প্রচারণায় অংশ নিতে বারণে সরকারি অতিগুরুত্বপূর্ণ তালিকায় মেয়রের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের (দলীয় প্রশাসক নিয়োগ হল এবার) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকার পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভোটের প্রচারণায় থাকতে পারবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ব্যয়ও নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে যুক্ত হবে।

প্রচারণায় মাইকের ব্যবহার বিষয়ে বেলা ২টার আগে এবং রাত ৮টার পরে বারণ ছিল। ছয় ঘণ্টা মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের ব্যবহার করা যেত। এবারও ছয় ঘণ্টা রেখেছে মাইকের ব্যবহার; সে ক্ষেত্রে বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে হবে।

আগে বিলবোর্ড ব্যবহারই নিষিদ্ধ ছিল। এবার প্রতি ওয়ার্ডে বিলবোর্ডের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড নয়। প্রচারে একের বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না।

আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিধানটি বিধিতে যুক্ত করা হয়েছে এবার।

উপজেলায় ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড এর সাইজের ব্যবহার একই ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট রয়েছে। ইউনিয়ন প্রতি একটি, পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে একটি; পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। উপজেলা ভোটে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প হবে না।

পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। মাইকে ও ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে বেলা ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে। সিটির প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থী।

নির্বাচনী ক্যাম্প আগের মতোই প্রতি থানায় একটি করে থাকতে পারবে মেয়রের। জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে প্রতি থানা/উপজেলা একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থী। জেলা পরিষদের নির্বাচনে মাইকের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়