শিরোনাম
◈ ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা? বিতর্কে মুখ খুললেন দুই তারকা ◈ যেসব অঞ্চলে সকালের মধ্যে ঝড় হতে পারে  ◈ আরও শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ছাড়াল ৩৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার ◈ আবারও ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস, অনুমোদন মন্ত্রিসভার ◈ নৌবাহিনী প্রধান হলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মিসবাহ উল আজীম ◈ থামছে না গণপিটুনি, ছয় মাসে প্রাণ গেল ১৩৩ জনের ◈ প্রচারণায় কোটি ডলার, তবু মার্কিন তরুণদের মন জয় হলো না ইসরাইলের ◈ সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেকে কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার ◈ বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন ◈ চট্টগ্রাম বোর্ডের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ রাত
আপডেট : ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রচারণায় কোটি ডলার, তবু মার্কিন তরুণদের মন জয় হলো না ইসরাইলের

ইসরাইলের পক্ষে মার্কিন রক্ষণশীল তরুণদের সমর্থন ধরে রাখতে মাসে ১৫ লাখ ডলারের একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা চালানো হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। বরং তরুণ মার্কিন রক্ষণশীলদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন আরও কমেছে। ফলে দেশটির কর্মকর্তারা বেজায় ক্ষুব্ধ বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রচারণার নেতৃত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পার্সকেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ, মাগা সমর্থকদের লক্ষ্য করে প্রচারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল-সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনে প্রভাব বিস্তারের জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হলেও জনমতের পরিবর্তন ঠেকানো যায়নি।


এআই প্ল্যাটফর্মেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা: টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বৈশ্বিক বিজ্ঞাপন সংস্থা হাভাস ইসরাইলের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা পরিচালনার জন্য পার্সকেলের প্রতিষ্ঠান ক্লক টাওয়ার এক্স-কে নিয়োগ দেয়।
 
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি মাসে অন্তত ১০০টি মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করতে হতো, যার অন্তত ৮০ শতাংশ জেনারেশন জেডকে লক্ষ্য করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও পডকাস্টে প্রকাশ করার কথা ছিল।
 
এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৫ কোটি ডিজিটাল ইমপ্রেশন তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রচারণার অংশ হিসেবে মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর চ্যাপজিপিটি, অ্যানথ্রোপিক-এর ক্লড এবং গুগল-এর জেমিনি-এর মতো এআই প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল ও তার যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে উপস্থাপিত হয়, তাতেও প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ইসরাইল পার্সকেলের প্রতিষ্ঠানকে ৯০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে এবং পরে চুক্তির মেয়াদও নবায়ন করা হয়েছে।
 
প্রচারণার অংশ হিসেবে অনলাইন বিজ্ঞাপন, মোবাইল ফোনে টেক্সট বার্তা পাঠানো এবং এআই সিস্টেম যে অনলাইন উৎস ব্যবহার করে, সেখানে ইসরাইলপন্থি তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়।
 
অর্থের বিনিময়ে ইনফ্লুয়েন্সার: টাইম জানায়, প্রচারণার সঙ্গে পরিচিত তিন ব্যক্তি বলেছেন, রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যক্তিগত গ্রুপ চ্যাটে নির্দিষ্ট ভাষা বা বার্তা পাঠানো হতো। তাদের পোস্টের ভিউ ও সম্পৃক্ততার (এনগেজমেন্ট) ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হতো।
 
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্য একটি প্রচারণায় অংশ নেওয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ২ হাজার ২৫০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রস্তাব দেখা গেছে।
 
টাইমের প্রতিবেদনে এক ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমরা ব্র্যাড পার্সকেলের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। তার কাজ ছিল পরিস্থিতির উন্নতি করা। আমরা তাকে অনেক অর্থ দিয়েছি। কিন্তু তিনি কী করেছেন? পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।’
 
এরপরও কমছে সমর্থন: পিউ রিসার্চ সেন্টারের এপ্রিলের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরাইলকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৪২ শতাংশ।
 
এছাড়া ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সি রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন, যা এক বছর আগে ছিল ৫০ শতাংশ।
 
ট্রাম্প প্রশাসনে উদ্বেগ: প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেন, অনেক মাগা-ঘনিষ্ঠ ইনফ্লুয়েন্সার একই ধরনের বার্তা দিয়ে যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস না করেই ‘আত্মসমর্পণ’ করার অভিযোগ তুলছেন।
 
এতে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, ইসরাইলের অর্থায়নে পরিচালিত রক্ষণশীল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। 
 
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা টাইমকে বলেন, বিদেশি অর্থ নিয়ে মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রেসিডেন্টের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এবং এটিকে তুচ্ছ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
 
আগেও এমন প্রচারণার অভিযোগ: প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে ইসরাইলের ডায়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় প্রায় ২০ লাখ ডলারের একটি প্রচারণা চালায়, যেখানে শত শত ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের ওপর ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
 
টাইমের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ায় দেশটি জনসংযোগ কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭৩ কোটি ডলার করেছে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও তরুণ মার্কিন ভোটার, ডেমোক্র্যাট এবং কমবয়সি রিপাবলিকানদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমার প্রবণতা এখনো থামানো যায়নি।  তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়