ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগের মুখে তা প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তার কার্যালয় নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে দাবি করেছে।
আহমাদিনেজাদের কার্যালয় জানায়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাকে গৃহবন্দি করেছে এমন প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। দাবির বিপরীতে তারা সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করা আহমাদিনেজাদের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ক্ষমতায় ফেরার জন্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আহমাদিনেজাদ। বিনিময়ে তিনি ইসরায়েলকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে মোসাদের এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এছাড়া ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে তাকে তেহরান থেকে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে ইসরায়েলের সঙ্গে কথিত যোগাযোগের তথ্য জানার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে গৃহবন্দি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আহমাদিনেজাদের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পত্রিকাটির বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব এবং সেখানে উপস্থাপিত হাস্যকর কাহিনি এমন যে এর জবাব দেওয়ারও প্রয়োজন ছিল না। তবে দেশের বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সব অভিযোগ ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হলিউডধর্মী এসব দাবি অস্বীকার করারও প্রয়োজন নেই বলে আমরা মনে করি। তারপরও ইরানের শত্রুদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে পত্রিকাটির সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।
এর আগে আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও এবারই প্রথম তার বিরুদ্ধে সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ বা ইসরায়েল-সমর্থিত রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হওয়ার অভিযোগ সামনে এলো।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আহমাদিনেজাদ। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত করার মতো নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করেন এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস