কোনও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বা অকাট্য যুক্তি নয়, কেবল নিজের ‘ভালো লাগা’র ওপর ভিত্তি করে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এক সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে কোনও যৌক্তিক ব্যাখ্যার চেয়ে ট্রাম্পের কাছে আবেগ ও তাৎক্ষণিক ইচ্ছাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এমনটি দাবি করছে খোদ হোয়াইট হাউস।
সাবেক রিয়েলিটি শো হোস্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এবিসি নিউজের এক সাংবাদিককে বলেন, আশা করি আপনারা মুগ্ধ। পারফরম্যান্স কেমন লাগছে?
এমনকি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো থেকে যুদ্ধের ভিডিওগুলো এমনভাবে পোস্ট করা হচ্ছে, যা দেখতে অনেকটা ভিডিও গেম বা যুদ্ধের ছবির মতো।
প্রখ্যাত কমেডিয়ান জিমি ফ্যালন ঠাট্টা করে বলেছেন, এটি সম্ভবত ইতিহাসের প্রথম যুদ্ধ যা কেবল আবেগের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছে।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে যুদ্ধের তদারকি করছেন ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের কাছে সাংবাদিকেরা যুদ্ধের কারণ জানতে চাইলে তিনি অদ্ভুত এক উত্তর দেন। লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের মনে একটা ভালো অনুভূতি কাজ করছিল যে, ইরান এই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ ও কর্মীদের ওপর হামলা করতে যাচ্ছে। সেই অনুভূতি থেকেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগের অধ্যাপক শন অ্যাডে বলেন, কোনও মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে যুদ্ধের সময় এর চেয়ে বাজে বার্তা আমি কখনও দেখিনি। এটি একই সঙ্গে অসংলগ্ন, অনৈতিক, অহংকারী এবং অপেশাদার। কখনও কখনও তারা নির্জলা মিথ্যাও ছড়াচ্ছে।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের আগে তৎকালীন বুশ প্রশাসন জনমত গঠনে প্রায় দেড় বছর ব্যয় করলেও ট্রাম্প প্রশাসন সেসবের কোনও তোয়াক্কাই করেনি।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড হাসের মতে, ট্রাম্প গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রায় অন্তঃসারশূন্য করে ফেলেছেন। হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকেও ছোট করা হয়েছে। ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও এখন একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, যা আগে দুটি আলাদা পদ ছিল।
যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে কোনও স্পষ্টতা নেই। কোনও আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন না করে তিনি কেবল ফোনে সাংবাদিকদের ছোট সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, যা অনেক সময় পরস্পরবিরোধী। তার মন্ত্রিসভা বলছে তারা ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তন চায় না, অথচ খামেনির মৃত্যুর পর ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে তার ভূমিকা থাকতে হবে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনবিসি নিউজের এক জরিপ অনুযায়ী, ৫২ শতাংশ মার্কিন ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের বিরোধী। ২০০১ সালে আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের শুরুতে ব্যাপক জনসমর্থন থাকলেও ট্রাম্পের এই ‘আবেগনির্ভর’ যুদ্ধ শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আল-মনিটর