সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে নিয়ে বেশকিছু আলোচনা ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরই প্রেক্ষিতে তিনি নিজেই ‘আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?’ শিরোনামে লিখেছেন ফেসবুকে। দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন তার বক্তব্য, নানান যুক্তি। পাশাপাশি তার লেখালেখি নিয়ে সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন ভিন্ন আরেক স্ট্যাটাসে। একইসঙ্গে সরকারে থাকা অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মের তালিকাও শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সূত্র: মানবজমিন
‘আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?’ শীর্ষক ওই পোস্টে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আসিফ নজরুল আমেরিকায় বাড়ি কিনেছে। বউ-বাচ্চা সব আমেরিকায় চলে গেছে। সেও শীঘ্রই আমেরিকায় ভেগে যাবে—এরকম একটা গাঁজাখুরি খবর বছরখানেক আগে ইউটিউবে ছাড়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ এটি দেখেন এবং ভয়াবহ বিষয় হলো, তাঁদের কেউ কেউ তা বিশ্বাস করা শুরু করেন! এর কিছুদিন পর খালেদ মুহিউদ্দিন-এর একটি অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠে। আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারি না। শুধু বলি, আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না।
খালেদের অনুষ্ঠানে আমি সকল ইউটিউবার, সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ করি—আমেরিকায় আমার বাড়ি থাকলে তার প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য। (আমি এই অনুরোধও করি, এই সংবাদের সত্যতা বের করতে না পারলে যে মিথ্যাবাদীরা এটি ছড়িয়েছে, তাঁদের কোনো কথা যেন কেউ বিশ্বাস না করে।) এই চ্যালেঞ্জ জানানোর পর প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। আমেরিকায় আমার বাড়ি আছে—এমন কোনো ঠিকানা, দলিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। পারার কথাও নয়।
কারণ আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই। নানা ধরনের গুজব কিছুটা হ্রাস পায় এরপর। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যায়, আমার (এবং আমার কিছু সহকর্মীর) তথাকথিত দুর্নীতির নতুন নতুন খবর ডালপালা মেলতে শুরু করে। প্রথমে ফালতু অনলাইনে, তারপর কপি-পেস্ট করে প্রায়-ফালতু অনলাইনে, তারপর এমন সব কুখ্যাত অপরাধীদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমে যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে খুব একটা আনন্দে থাকতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘এইসব খবর আমার সহকর্মীদের অনেকে পাত্তাই দিতে চান না। আমিও চাই না। কিন্তু আমি জানি আমাকে বহু মানুষ ভালোবাসেন, আমার জন্য দোয়া করেন। তাদের একজনও যদি এসব মিথ্যোচারে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমার কিছু কথা স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন। আমার বক্তব্য এখানে অন-রেকর্ড বলে রাখলাম তার মতো মানুষদের এবং অন্য যে কারো জন্য।’
নিজের বক্তব্য তুলে ধরে সাবেক এই আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার বক্তব্য-১. আমি সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমার জ্ঞাতসারে কাউকে দুর্নীতি করতেও দিইনি। আমি কোন নতুন ব্যাংক একাউন্ট খুলিনি, আমার কোন নতুন সম্পদ হয়নি, আয়কর দেয়ার সময় আমি কোন সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখিনি। আমি কোন দুর্নীতি করিনি, করার প্রশ্নই আসে না। বক্তব্য-২. আমি কোনো স্বজনপ্রীতিও করিনি।
সরকারে থাকা অবস্থায় আমার পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে বিন্দুমাত্র সুবিধা দিইনি বা তাঁদের কোনো অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিইনি। আমি প্রায় পাচহাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেইনি। আমার আত্মীয়রা কখনো কারও পক্ষে তদবির করার সুযোগও পাননি। বক্তব্য ৩. আমি কখনো এলাকাপ্রীতি করিনি। উপদেষ্টা থাকাকালে আমার গ্রামের বাড়ি বা ঢাকা শহরে, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি, সেখানে একবারও যাইনি। তবে আমি লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অল্প কিছু আর্থিক সহযোগিতা নিয়মানুগভাবে পেতে সহযোগিতা করেছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনক্রমে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে ঢাবির খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান এনে দিয়েছি। এর বাইরে কারও জন্য অনুদানের অনুরোধও আমি কখনো করিনি। আমি বহু জঘন্য ও পৈশাচিক মিথ্যাচার সহ্য করে যাচ্ছি। আমাদের মহানবী (সা.) থেকে শুরু করে বহু উলামায়ে কেরাম এরচেয়েও বহুগুণ মিথ্যাচার ও অপবাদের শিকার হয়েছেন। আমি তাঁদের তুলনায় নিতান্ত নগণ্য মানুষ। কিন্তু চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি। আল্লাহ আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেননি।’
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘যারা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, আপনাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করার রুচি আমার নেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে যে, দিনশেষে আমার কোনো ক্ষতি আপনারা করতে পারবেন না। আমাকে গত বিশ বছরে বহু অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। আল্লাহ আছেন, আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট। হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।’
আরেক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘জাকির তালুকদার মাঝেমাঝে আমাকে নিয়ে পোস্ট দেন। কোনো বিশ্লেষণ বা আলোচনার ধারে-কাছে না গিয়ে শুধু এটিই লিখেন যে, আমি একজন খুব নিম্নমানের লেখক। জানি না, কিছুদিন পরপর এটা ঘটা করে জানানোর প্রয়োজন কেন তিনি অনুভব করেন।
আমি নিজে যে তার লেখার ভক্ত তা নয়। তার মুসলমানমঙ্গল বইয়ের কিছু প্রশংসা দেখে কিনে এনেছিলাম। উইকিপিডিয়ার তথ্যধর্মী কিছু বিবরণের ভেতরে ভেতরে দুর্বল কাহিনি গুঁজে দেওয়ার একটা চেষ্টা ছিল সেটা! কিছুদূর পড়ে আর এগোনো যায় না। তার বাকি দু-একটা যা পড়ার চেষ্টা করেছি, সে সম্পর্কে আর বললাম না! এই মানের একজন লেখক কী আত্মবিশ্বাসে অন্যকে বিনা প্ররোচনায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, আমি বুঝতে পারি না।
আমাকে নিয়ে শেষ পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমি নিজে যে মানের লেখক, সেই মানের লোকদের বিভিন্নভাবে পদায়ন করেছিলাম সরকারের থাকার সময়। সে সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে আমি সৈয়দ জামিল আহমেদ, মোহাম্মদ আজম, আফসানা বেগম, লতিফুল ইসলাম শিবলীকে পদায়ন করেছিলাম। এই লোকগুলো কেন তার কাছে তুচ্ছ এবং অযোগ্য মনে হলো, আমি সেটাও বুঝতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, তিনি বঞ্চনা ও ঈর্ষা লালন করা একজন মানুষ। এ ধরনের মানুষরা ভয়াবহ আত্মপ্রেমী হন। সেটা সমস্যা না। তিনি যত খুশি নিজেকে মাথায় তুলে নাচতে থাকেন সমস্যা নেই। কিন্তু যাকে-তাকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ছোট করেন কেন? আমি সবসময় কারও লেখা ভালো লাগলে তা সবিস্তারে লিখি। না লাগলে কোন বিরূপ মন্তব্য করিনা। আমাকে সেটা করতে তিনি বাধ্য করলেন।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন ড. আসিফ নজরুল। অপর এক পোস্টে সরকারে থাকা অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেন। ইংরেজিতে সেগুলো এমন-interim Government:Ministry of Expatriates’ Welfare and Overseas Employment
The Ministry achieved major milestones in governance reform, digitisation, market expansion, and worker welfare—positioning Bangladesh as a model for transparent, technology-driven labour migration management.
1. Institutional and Process Reforms
The Overseas Employment Platform (OEP), launched on 1 April 2025, has fully digitised BMET’s services, connecting 64 DEMOs, 110 TTCs, 2,200 recruiting agencies, and 185 missions abroad. All worker approvals—from registration to emigration clearance—are now processed online, eliminating Tk 100 crore in informal fees annually and ensuring full transparency.
A national Task Force was established to implement the six commission reports on migration reform, supported by ILO and IOM. The Ministry decentralised emigration clearance to district offices, integrated NID verification, simplified airport procedures, and established Complaint Management Cells and Help Desks nationwide—making services faster, corruption-free, and accessible at the local level.
______
2. Market Development and Global Partnerships
Bangladesh’s overseas employment markets expanded significantly.
The Japan Cell, established in 2025, unified over 300 training and recruitment institutions under one coordination hub. Deployment to Japan rose from 4,000 in 2024 to over 6,000 workers in just six months, supported by new MoUs with major Japanese employers to send 100,000 workers over five years.
In Saudi Arabia, over 100,000 workers have been certified under the expanded Takamol Skill Verification Programme, with 30 accredited centres nationwide.
Malaysia accreditation with CIDB began for construction worker certification.
The NCLEX training programme prepared 50 nurses for global markets, with one already migrating to the U.S.
Language programmes in Japanese, German, and Italian (for 4,000 workers to Italy by 2027) expanded hybrid training access nationwide.
______
(পুরো অংশটি এখানে)।

এছাড়া আজ শনিবার সর্বশেষ করা ভিন্ন এক পোস্টে মহানবীর (সা.) জীবনী নিয়ে বই লেখার আশাবাদ ব্যক্ত করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘মহানবীর (সা.) জীবনী: কয়েক বছর আগে আমি হজ্ব করে আসি। এরপর ধর্মীয় বিষয়ে জানার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। আমাদের মহানবী (সা.)-এর জীবনী পড়ি বেশকিছু। মনে একটা প্রবল ইচ্ছে জন্ম নেয়, সহজ ভাষায় উনার জীবনী লেখার। মানুষের পথপ্রদর্শক ছাড়াও, ব্যবসা, যুদ্ধপরিচালনা, কূটনীতি, দেশশাসন, মানবাধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে উনার অসামান্য সাফল্যকে তুলে ধরার। এটা অনেক বড় কাজ, অনেক বিশাল। তবু আমি সাহস করে প্রস্তুতির কাজ শুরু করি। এরমধ্যে দেশে সরকার পরিবর্তন হয়। আমার পুরো পৃথিবী বদলে যায়। লেখালেখি দুরের কথা, এগুলো নিয়ে ভাবার সময় পর্যন্ত পেতাম না। আল্লাহর রহমতে এখন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরত এসেছি। আবার আমার মনে পুরানো ইচ্ছেটা জাগ্রত হচ্ছে। ইনশাল্লাহ্ শুরু করবো। আপনারা দোয়া করবেন।’