শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জোড়া বিদেশ সফর, ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত ◈ বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পুনরুজ্জীবনে বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ ◈ ২৪ জেলার চিত্র বদলে দেবে পদ্মা ব্যারাজ ◈ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম যেসব ঘটনায় আলোচনায় ◈ মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে বাংলাদেশেই : প্রধানমন্ত্রী ◈ কিশোর–কিশোরীদের নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী ◈ ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না’ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত ◈ বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনার ভেন্যুর শহরে বন্যা, সতর্কতা জারি ◈ দেশের স্বার্থেই কূটনৈতিক সফর, কারও মন জোগাতে নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ০২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৫ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৩৫ হাজার ডলারের ড্রোনে কাবু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা: ঠেকাতে খরচ ৪০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। তবে তেহরানের একেকটি সস্তা ড্রোন ঠেকাতে পশ্চিমাদের যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তাতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার (ক্ষেপণাস্ত্র) মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের একেকটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। বিপরীতে এটি ধ্বংস করতে একেকটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এটিই এখন পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাকারীদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরান বর্তমানে ইসরায়েল ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন এবং মিত্রদের ঘাঁটিতে একসঙ্গে হামলা চালাচ্ছে। তেহরান প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে তাদের শত্রুদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে ফেলেছে। কারণ, একটি ঘাঁটিকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর আর অন্য কোথাও ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ‘শাহেদ’ ড্রোন মজুত আছে। মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন তৈরির সক্ষমতা থাকায় তারা টানা এক মাস প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।

২০২৫ সালের জুনের লড়াইয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল। তখন মাত্র ১২ দিনে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০টি থাড (প্রতিরক্ষাব্যবস্থা) ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল, যা তাদের মোট মজুতের এক-চতুর্থাংশ। প্রতিটি থাড ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় ১৫ মিলিয়ন (দেড় কোটি) ডলার এবং এটি নতুন করে তৈরি করতে তিন থেকে আট বছর সময় লাগে।

স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ইন্টারসেপ্টর নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা এগুলো তৈরির চেয়ে দ্রুত হারে ব্যবহার করে ফেলছি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে ২-৩টি ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হয়, যা মজুতকে দ্রুত শূন্য করে দিতে পারে।’

প্যাসিফিক ফোরামের উইলিয়াম আলবার্ক জানান, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ইন্টারসেপ্টরের মজুত আগে থেকেই কম ছিল, যা এখন কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেইলি মেইলকে বলেন, এই যুদ্ধ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। অর্থাৎ ইরান যদি ড্রোন হামলা জারি রাখে, তাহলে ট্রাম্পের দেওয়া সময়ের আগেই তাঁর অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ইন্টারসেপ্টরের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে বিপুল খরচ কমাতে পশ্চিমারা এখন ‘এপিকেডব্লিউএস’ গাইডেড রকেট ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যার প্রতি শটের খরচ মাত্র ২৮ হাজার ডলার। এ ছাড়া ইসরায়েলের ‘আয়রন বিম’ লেজার সিস্টেম ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে, যার খরচ প্রতি শটে মাত্র কয়েক ডলার। তবে বর্তমানে এই লেজার সিস্টেমের মাত্র এক-দুটি সচল আছে এবং সেগুলো কেবল ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ।

সাবেক ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডার ইয়াল পিনকো বলেন, সামনে আরও অনেক হামলা আসছে। ইরানের কাছে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুত আছে। শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা এখন সর্বাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত। উৎস: আজকের পত্রিকা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়