শিরোনাম
◈ সাজেকে ১৪ দিনের অবরোধে চরম খাদ্যসংকট, পর্যটন ও পরিবহন খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা: সমাধান করবে কে? ◈ শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ জিগাতলায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ ◈ গাছতলায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ৯৫ বছরের বাবাকে বাড়িতে নিলেন বড় ছেলে ◈ কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত ◈ ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক, ছাড়পত্রে সরকারের কঠোর নির্দেশনা ◈ ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পায়ে হেঁটে মানিকমিয়া এভিনিউ পর্যন্ত যাবেন ◈ জানুয়া‌রি‌তে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ? ◈ সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি ◈ ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশের অভিযোগ, ডিজিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থা

প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১২:০১ দুপুর
আপডেট : ১৩ মে, ২০২৫, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রলোভন এড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ভারতকে মোকাবিলা করতে হবে: দ্য হিন্দু

রাশিদ রিয়াজ: ভারতকে বাংলাদেশের সকল পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে হবে, এমন তাগিদ দিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা এড়িয়ে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের ভিন্ন চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কের বাঁক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। কেননা দিল্লি বরাবরই শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগকে তাদের প্রধান মিত্র ভেবেছে। যার ফলে ভারত হাসিনার সকল কাজেই সমর্থন দিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তারা ন্যায়-অন্যায় বিচার করেনি। এতে হাসিনার সাথে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের সমর্থন হারিয়ে বেশ চিন্তাতেই পড়েছে দিল্লি। তারা সার্বক্ষণিক বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সামাজিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর জারি করেছে। কেননা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ বাংলাদেশের বিগত সরকারই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিল। 

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল এ.এন.এ. মুনিরুজ্জামান (অব.)। তিনি মনে করেন ভারতকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সকল পক্ষের সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে। 

তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর বাংলাদেশের রাজনীতি আর আগের অবস্থানে নেই এবং এই পরিস্থিতিতে এক পক্ষীয় কূটনীতি পরিচালনা করা যায় না এবং ভারতকে দ্রুত এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। ঢাকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বিনির্মাণে নতুন করে ভাবতে হবে।

হাসিনা সরকারের পতনকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমাপ্তি বলে ব্যাখ্যা করার দরকার নেই বলে জেনারেল মুনিরুজ্জামান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বাংলাদেশের জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানো উচিত।

এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নজির স্থাপন হয়েছে সেটাই বলে দিচ্ছে দেশটির রাজনৈতিক লক্ষ্য এখন আর আগের স্থানে নেই। বর্তমানে অন্তর্র্বতী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকারে ছাত্রদের একাধিক প্রতিনিধি দায়িত্বপালন করছেন। বিশেষ করে যেসকল সুশিল সমাজ এবং ছাত্র নেতারা হাসিনার পতনকে তরান্বিত করেছিল তারাই অন্তর্র্বতী সরকারে রয়েছেন। আশা করা যায় এ সরকার গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে অধিক সহায়ক হবে। ৫ই আগস্ট আকস্মিকভাবে শেখ হাসিনার শাসনের অবসানের আগাম সতর্কবার্তা দিল্লির মনোযোগ আকর্ষণ করেনি। তারা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে পাত্তা দেয়নি। তিনি আরও বলেন, ভারতকে বাংলাদেশের সাথে জড়িত থাকতে হবে এবং এক্ষেত্রে প্রলোভন এড়িয়ে যেতে হবে। ভারতকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সঠিক দিকটিতে থাকতে হবে।

মুনিরুজ্জামান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে , বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ভারতকে তা সৃজনশীল পদ্ধতিতে মোকাবিলা করতে হবে। জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তা নজিরবিহীন বলে মনে করেছেন অনেক বিশ্লেষক।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ গণঅভ্যুত্থান বলে বিবেচিত হচ্ছে এই আন্দোলন। কেননা টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন হাসিনা। তিনি ক্ষমতায় থাকতে জোরপূর্বক গুম করতেও দ্বিধা করেননি। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। মূলত হাসিনার এই আকস্মিক পতনে দিল্লির কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। এছাড়া হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েও বিভিন্ন বিষয়ে সমীকরণ মেলাতে বেশ চিন্তিত দেশটি।

  • সর্বশেষ