শিরোনাম
◈ সাজেকে ১৪ দিনের অবরোধে চরম খাদ্যসংকট, পর্যটন ও পরিবহন খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা: সমাধান করবে কে? ◈ শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ জিগাতলায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ ◈ গাছতলায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ৯৫ বছরের বাবাকে বাড়িতে নিলেন বড় ছেলে ◈ কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত ◈ ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক, ছাড়পত্রে সরকারের কঠোর নির্দেশনা ◈ ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পায়ে হেঁটে মানিকমিয়া এভিনিউ পর্যন্ত যাবেন ◈ জানুয়া‌রি‌তে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ? ◈ সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি ◈ ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশের অভিযোগ, ডিজিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থা

প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১৮ রাত
আপডেট : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৩৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাছতলায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ৯৫ বছরের বাবাকে বাড়িতে নিলেন বড় ছেলে

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ভ্যানে করে বড় ছেলের বাড়ি ফেলেন বৃদ্ধ শামসুল হক মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বাড়ির কাছের গাছতলায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার পর অবশেষে বড় ছেলের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছেন ৯৫ বছর বয়সী শামসুল হক মোল্লা। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান ছেলে আজিজুল হক মোল্লা। বাবার মৃত্যুর আগপর্যন্ত তার দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

শামসুল হকের বাড়ি উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে। তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রিয়াজুল মোল্লা বাসের চালকের সহকারী। চার মেয়ের মধ্যে তিনজন বিবাহিত। ছোট মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী।

পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ির বাইরে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে মঙ্গলবার সকালে। ওই দিন দুই ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা তাকে বাড়ির অদূরে একটি গাছের নিচে রেখে যান বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন দুই ছেলে ও চার মেয়েকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। সেখানে তাদের বাবার দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাতে বুধবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন। তবে তার আগেই দুপুরে বাবাকে বাড়িতে নিয়ে যান বড় ছেলে আজিজুল।

আজিজুল হক বলেন, বাবাকে গাছের নিচে তিনি রাখেননি, তার বোনেরাই সেখানে রেখে গেছেন। তার দাবি, বাবার সম্পত্তি ও টাকা-পয়সা বোনেরা নিয়েছেন। সেসব শেষ হওয়ার পর তারাই বাবাকে গাছের নিচে রেখে যান। তিনি বলেন, ‘গতকাল ইউএনও স্যার আমাদের ডেকেছিলেন। আজ বাবাকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। মৃত্যুর আগপর্যন্ত বাবা আমার কাছে থাকবেন।’

Advertisement

বাবার সম্পত্তি ও অর্থের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বোনদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথাও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে হজ পালন করেন শামসুল হক। এরপর অবশিষ্ট জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, জমি ভাগ করে দেওয়ার পর সন্তানেরা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় বাবার দেখাশোনা কমে যায়।

মঙ্গলবার শামসুল হক জানিয়েছিলেন, তার বয়স ৯৫ বছর। জীবনের পুরোটা সময় কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের বড় করেছেন। অথচ এখন তাদের কাছে তিনি বোঝা হয়ে গেছেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ যা করেন, সেটিই মেনে নেওয়ার কথা বলেছিলেন বৃদ্ধ এই বাবা।

ইউএনও সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, খবর পেয়ে মঙ্গলবার আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওই রাতে শামসুল হককে স্থানীয় একটি মক্তবে রাখা হয়। বুধবার বড় ছেলে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। দুই ছেলের আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও পরিবারের কাউকে না কাউকে বাবার দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • সর্বশেষ