শিরোনাম
◈ ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ শেষের পথে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় আউটার রিং রোড, খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার ◈ ১০ টাকার নোটের দাম ২০ হাজার, সুন্দরবনে দস্যুদের অভিনব চাঁদাবাজি ◈ সঙ্গীসহ বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে ◈ আট দিন ঝুপড়িতে বন্দি, পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ; কাঁচা কদু-ডাল খাইয়ে হাতে-পায়ে শিকল, যেভাবে পাহাড়ে চলত মানবপাচার ◈ এবার হবিগঞ্জে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরি ◈ পুলিশি হামলার বিচার চেয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের ◈ কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারে ৭ দফা নির্দেশনা, সিসিটিভি নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শন বাধ্যতামূলক ◈ সরকারি দপ্তরে ঘুষ-খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান ◈ দুই দশকের বেশি সময়েও থামেনি রাজনৈতিক সহিংসতা, সরকার বদলালেও বদলায়নি সংঘাতের চিত্র

প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৫ রাত
আপডেট : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আগামী তিন মাসে ৬ দফা শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, ঘূর্ণিঝড় হতে পারে ২টি

শীত নিয়ে দুঃসংবাদ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

মনিরুল ইসলাম : চলতি শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক দফায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের কোনো কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।

আজ শুক্রবার ৬ নভেম্বর প্রকাশিত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শীত মৌসুমে কয়েক দফায় শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বাসসকে জানান, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে।

Advertisement

জানুয়ারি মাসে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা বেশি। এ সময় কখনো কখনো এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তখন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে সেটিকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উষ্ণ শীতের পূর্বাভাসও রয়েছে

এবার শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা থাকলেও সামগ্রিকভাবে শীত মৌসুম কিছুটা উষ্ণ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর ব্যাখ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। এ কারণে এবারের শীতকাল সামগ্রিকভাবে কিছুটা উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলেও মাঝেমধ্যে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তার মতে, অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের দিনসংখ্যা, ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব তুলনামূলক কম থাকতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাবে শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা ও স্থায়িত্ব নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ঘন কুয়াশায় বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি

আগামী তিন মাসে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

শীতের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। কখনো কখনো এসব লঘুচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।

তিনি জানান, সূর্যের দক্ষিণায়নের কারণে এ সময় দিনের দৈর্ঘ্য কমে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে। বঙ্গোপসাগরে সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পরিবর্তনও এ ধরনের আবহাওয়াব্যবস্থা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

বৃষ্টিপাত কেমন হতে পারে

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণে পার্থক্য থাকবে।

নভেম্বরে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার এবং বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

ডিসেম্বরে বৃষ্টিপাত আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

অক্টোবরে বৃষ্টি কমেছে ৬৮ শতাংশ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে, ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১৭ অক্টোবর এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৭ অক্টোবর এ তাপমাত্রা ছিল।

গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, ০ দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের পরিস্থিতি, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত আন্তর্জাতিক আবহাওয়া কেন্দ্রগুলোর পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এতে এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকায় নিয়মিত দৈনন্দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

  • সর্বশেষ