শিরোনাম
◈ শেষের পথে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় আউটার রিং রোড, খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার ◈ ১০ টাকার নোটের দাম ২০ হাজার, সুন্দরবনে দস্যুদের অভিনব চাঁদাবাজি ◈ সঙ্গীসহ বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে ◈ আট দিন ঝুপড়িতে বন্দি, পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ; কাঁচা কদু-ডাল খাইয়ে হাতে-পায়ে শিকল, যেভাবে পাহাড়ে চলত মানবপাচার ◈ এবার হবিগঞ্জে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরি ◈ পুলিশি হামলার বিচার চেয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের ◈ কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারে ৭ দফা নির্দেশনা, সিসিটিভি নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শন বাধ্যতামূলক ◈ সরকারি দপ্তরে ঘুষ-খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান ◈ দুই দশকের বেশি সময়েও থামেনি রাজনৈতিক সহিংসতা, সরকার বদলালেও বদলায়নি সংঘাতের চিত্র ◈ সাধারণ লবণের বদলে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ লবণ ব্যবহারে বছরে ৩০ লাখ মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব: গবেষণা

প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত
আপডেট : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কপ ৩১ সম্মেলন : জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, অভিযোজন ও প্রযুক্তি সহায়তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দাবি তুলে ধরবে ঢাকা

মনিরুল ইসলাম : জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জলবায়ু তহবিলের অর্থ পেতে আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হবে।

বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ক্রমাগত ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহের মতো নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব দুর্যোগ মানুষের জীবন, জীবিকা ও দেশের উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাই জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার।

Advertisement

তিনি জানান, কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের মূল অবস্থান হবে পর্যাপ্ত অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে অভিযোজন ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন করে ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে অনুদান বাড়ানোর দাবি জানানো হবে।

পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর, চর ও খরাপ্রবণ এলাকার মানুষের পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত এবং সহজে অনুদান পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা হারানোসহ অন্যান্য অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায়ও নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে। প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও সক্ষমতা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্যও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী ও তরুণদের শোভন কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন শিল্প ও পরিবহন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি বন, ম্যানগ্রোভ, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত জলবায়ু উদ্যোগে অর্থায়ন বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নেবে বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ ও বনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মতামত এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কপ৩১-এর জন্য বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরি করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি-৭৭ এবং সমমনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে।

তিনি বলেন, কপ৩১ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা হলো জলবায়ু অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সহায়তার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি। এর মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

ড. সাইমুম পারভেজ আরও জানান, সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ১০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, এনডিসি ৩.০, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি, কার্বন বাজার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া একটি জুট প্যাভিলিয়নও স্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। অথচ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে দেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম। এমন বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ