শিরোনাম
◈ ফর্মে ফিরতে বাবর আজম‌কে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলনের পরামর্শ ইউসুফের ◈ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১১ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার ◈ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ স্নাইপার থেকে রকেট লঞ্চার : পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে ভয়ংকর অস্ত্র ◈ যুদ্ধের ধাক্কায় পাঁচ গুণ বেড়েছে তেল পরিবহন ব্যয়, অস্থির জ্বালানি বাজার ◈ যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে বড় পরিবর্তন, আইএলআর পেতে ১০-১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে বাংলাদেশিদের? ◈ গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়নে আশাবাদী বাংলাদেশ, সৌদি আরবের জবাবের অপেক্ষায় সরকার ◈ আগারগাঁওয়ে রাতের আঁধারে মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণ ◈ সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য নতুন নির্দেশনা, যেসব কাজ করলে হতে পারে জরিমানা বা শাস্তি ◈ যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন মঙ্গলবার, কী হবে ট্রাম্পের ভাগ্য?

প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৩ সকাল
আপডেট : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ে লুকিয়ে আছে এক রহস্যময় কূপ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড় মানেই ঝরনা, ছড়া আর সবুজে ঘেরা দুর্গম পথ। তবে এই পাহাড়ের আনাচকানাচে লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যার সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে রহস্যের হাতছানি। তেমনই এক বিস্ময়কর স্থান কুমারীকুণ্ড। ঘন ঝোপঝাড় আর পাথুরে ছড়ার আড়ালে থাকা এই প্রাচীন কূপের স্বচ্ছ নীল জল, তলদেশ থেকে উঠে আসা গ্যাসের বুদবুদ এবং আশপাশে ছড়িয়ে থাকা পুরনো ইটের কাঠামো কৌতূহল জাগায় ইতিহাস ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে।

সীতাকুণ্ডের পরিচিত তীর্থস্থানগুলোর বাইরে, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত এই স্থানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নানা কৌতূহল রয়েছে। ধারণা করা হয়, কুমারীকুণ্ড একসময় কোনও প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা বা তীর্থস্থানের অংশ হয়ে থাকতে পারে। তবে এর সঠিক নির্মাণকাল, প্রতিষ্ঠার ইতিহাস কিংবা ধর্মীয় ব্যবহারের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য সীমিত। ফলে জায়গাটিকে ঘিরে থাকা ইতিহাসের অনেকটাই এখনও অনুসন্ধানের অপেক্ষায়।

কুমারীকুণ্ডে পৌঁছানোর পথও বেশ রোমাঞ্চকর। ছড়া ধরে এগোতে হয় পাথুরে ও দুর্গম পথ দিয়ে। কোথাও ঘন গাছপালা, কোথাও ঝোপঝাড়ে ঢাকা সরু পথ। সেই পথ পেরিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে পুরনো ইটের কাঠামো। যেন সবুজ পাহাড়ের বুকের মধ্যে সময়ের আড়ালে চাপা পড়ে রয়েছে অতীতের কোনও নিদর্শন।

স্থানটির মূল আকর্ষণ পাথর দিয়ে বাঁধানো কূপের মতো জলাধার। আনুমানিক আট থেকে দশ ফুট গভীর এই কুণ্ডের জলে নীলচে আভা দেখা যায়। পানির তলদেশ থেকে গ্যাসের বুদবুদ উঠে আসার দৃশ্য জায়গাটিকে আরও রহস্যময় করে তোলে। চারপাশের দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। আশপাশে ছড়িয়ে থাকা অদ্ভুত আকৃতির পাথর ও পুরনো ইটের অবশেষ দেখে অনুমান করা যায়, স্থানটি একসময় অন্য রূপে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

Advertisement

কুমারীকুণ্ডকে ঘিরে একটি ধারণা হলো, প্রাচীনকালে উষ্ণ প্রস্রবণ বা ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গমনের মতো প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত স্থানকে ঘিরে ধর্মীয় বিশ্বাস গড়ে উঠতে পারতো। সীতাকুণ্ড অঞ্চলের বিভিন্ন কুণ্ড ও তীর্থস্থানও দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে আসছে। তবে কুমারীকুণ্ডের ক্ষেত্রে এমন কোনও সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এখানকার পানিতে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গেলেও সেটিকে উষ্ণ প্রস্রবণ বলে চিহ্নিত করার জন্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

সময়ের সঙ্গে দুর্গম অবস্থান, ঘন জঙ্গল এবং পরিচিত তীর্থাঞ্চল থেকে দূরত্বের কারণে কুমারীকুণ্ড সাধারণ পর্যটকদের নজরের বাইরে থেকে গেছে। ফলে জায়গাটি এখনও অনেকের কাছে অচেনা। তবে ঠিক এই নির্জনতাই এর প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। যারা পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে নতুন কিছু খুঁজতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে কুমারীকুণ্ড হতে পারে প্রকৃতি ও ইতিহাসের সন্ধানে এক ব্যতিক্রমী গন্তব্য।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড যেতে সড়কপথে চট্টগ্রামগামী বাসে যাত্রা করা যায়। ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামগামী বাস ছাড়ে। সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে এস.আলম, সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভূতি এসি ও নন এসি বাস চলাচল করে। সবগুলো বাসই সীতাকুণ্ডে থামে।

সীতাকুণ্ড বাজারে পৌঁছে কুমারীকুণ্ডের সঠিক অবস্থান ও যাতায়াতের পথ সম্পর্কে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে হবে। দুর্গম ছড়া ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয় বলে আগে থেকেই অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইডের ব্যবস্থা করা ভালো। বর্ষাকালে পাথর পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া, হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়া এবং পথ চিনতে অসুবিধার আশঙ্কা থাকে। তাই আবহাওয়া খারাপ থাকলে যাত্রা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন 

  • সর্বশেষ