শিরোনাম
◈ ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী, রিয়াদ বিমানবন্দরে বুধবার থেকে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা ◈ ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতের সময় এগিয়ে এসেছে, বাংলাদেশে ৩ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস ◈ জাপানের বিগ-বি পরিকল্পনা কী, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবং ভারতকে যুক্ত করতে চায় কেন? ◈ মাদুশাঙ্কার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ধস পাকিস্তানের, ফাইনা‌লে শ্রীলঙ্কা ◈ আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ কর‌বে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ◈ বুধবার মিরপুরে বাংলা‌দেশ-ও‌য়েস্ট ইন্ডিজ সি‌রি‌জের প্রথম টেস্ট ◈ জাপানের চাকরির বাজারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ সুন্দরবনের পশুর নদীতে ১২৫০ টন কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য ◈ পর্যটকদের জন্য সুখবর, সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ◈ চাকরির ফাঁদে বাংলাদেশিদের রাশিয়ার যুদ্ধে পাঠানোর প্রমাণ পেল জাতিসংঘ

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০০ রাত
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতের সময় এগিয়ে এসেছে, বাংলাদেশে ৩ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

এনডিটিভির প্রতিবেদন: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের উপকূলে আঘাত হানার সময় এগিয়ে এসেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ইয়ানামের উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এ ক্ষেত্রে বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। ইয়ানামের দক্ষিণ দিক দিয়ে উপকূলে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ‘অর্ণবের’ প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকলেও বাংলাদেশে এর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আগের ৬ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। এসময় এটি বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য অংশে অবস্থান করছিল।

Advertisement

অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকতে পারে।

দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির বাইরের সর্পিল মেঘমালার একটি অংশ ইতিমধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় স্থলভাগে আঘাত হানার সময়ও এগিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে ‘অর্ণবের’ তেমন প্রভাব না পড়লেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অর্ণবের কারণে ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিতে দেশে তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ এবং এর প্রভাব নিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এসব তথ্য জানান। আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব।

এর সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা না থাকলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিন দিন থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতোমধ্যে অর্ণবের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এরই মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইসহ দেশের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকার কিছু অংশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।

উপকূলীয় এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিনদিন দেশের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।’

ঘূর্ণিঝড়ের পর তাপমাত্রা কমতে পারে জানিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে অনেক সময় দেশের আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। সূর্যের আলো বেশি সময় ধরে পড়ায় সম্প্রতি সারা দেশে তাপমাত্রা বেশি ছিল। তবে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে বুধবার থেকে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে।’

বৃষ্টির পরই দেশে শীতের আমেজ শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখনই শীতের আমেজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নভেম্বরের শেষের দিকে শীত অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে এখন তো কার্তিক মাস, এ সময় প্রান্তিক পর্যায়ে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীত শীত অনুভূত হয় এবং কুয়াশার ধোঁয়াশাও তৈরি হয়।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির ১২ নম্বর বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

  • সর্বশেষ