শিরোনাম
◈ সুন্দরবনের পশুর নদীতে ১২৫০ টন কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য ◈ পর্যটকদের জন্য সুখবর, সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ◈ চাকরির ফাঁদে বাংলাদেশিদের রাশিয়ার যুদ্ধে পাঠানোর প্রমাণ পেল জাতিসংঘ ◈ বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাটিয়ে সচল জাতীয় গ্রিড, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ◈ রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের ◈ হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের, ইরানের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ◈ বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করবে জাপান, ৫ বছরে ২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ◈ চীনকে মোকাবিলায় মেগা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের, যে কারণে প্রতিবাদ করছে অরুণাচলের তরুণ প্রজন্ম ◈ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ◈ নতুন বেতনকাঠামো: ১ নভেম্বর বকেয়াসহ বেতন পাবেন যারা, বঞ্চিত হবেন অনেকেই

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪৪ রাত
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুন্দরবনের পশুর নদীতে ১২৫০ টন কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত পশুর নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজে থাকা নয়জন কর্মী সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে আশ্রয় নেওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ডুবে যাওয়া জাহাজের কয়লা নদীতে ছড়িয়ে পড়লে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা। দুর্ঘটনাস্থলে বন বিভাগের একটি দল পাঠানো হয়েছে। কয়লা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ।

ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম এমভি ফুলবাড়ী। এটি তানিয়া শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন। কয়লা নিয়ে জাহাজটির নরসিংদীর ঘোড়াশালে যাওয়ার কথা ছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় জাহাজটি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরও পশুর চ্যানেলের মূল নৌপথে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জাহাজটির মাস্টার সুজন মোল্লা জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে মোংলা বন্দরের হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা বোঝাই করে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয় এমভি ফুলবাড়ী। পরে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় পৌঁছালে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজটিকে ধাক্কা দেয়। এতে কার্গোটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং একপর্যায়ে নদীতে ডুবে যায়।

কার্গো জাহাজের ড্রাইভার প্রশান্ত চন্দ্র শীল বলেন, দুর্ঘটনার সময় জাহাজে নয়জন কর্মী ছিলেন। জাহাজটি ডুবতে শুরু করলে তাঁরা দ্রুত সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে আশ্রয় নেন। এতে সবাই প্রাণে রক্ষা পান।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে প্রায় ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লা ছিল। জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ায় কয়লার কতটা নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কয়লা পানিতে মিশে সুন্দরবনের পরিবেশের ক্ষতি করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছে বন বিভাগ।

এদিকে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে জানান, কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ নদীতে ডুবে যাওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে কার্গো প্রতিষ্ঠানের কেউ তখন পর্যন্ত থানায় আসেননি। এ কারণে দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কয়লা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস বলেন, কয়লাবোঝাই জাহাজটি যেখানে ডুবেছে, সেই স্থানটি সুন্দরবনের চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ির আওতাধীন। জাহাজডুবির খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে কয়লা ছড়িয়ে বনের পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার সময় নদীতে ভাটা ছিল। ডুবে যাওয়া কার্গো থেকে কয়লা নদীর পানিতে মিশে থাকলে জোয়ারের সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তা বোঝা যেতে পারে। বনকর্মীদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন পরিবেশকর্মীদের

পশুর নদীতে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও নদীর জলজ প্রাণীর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের দাবি, সুন্দরবনের ভেতরে বারবার কয়লা ও তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লেও তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনের ভেতরে বারবার কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনা ঘটছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ পশুর চ্যানেলের মূল নৌপথ নিরাপদ থাকার কথা বললেও পরিবেশগত দিক থেকে সুন্দরবন ও পশুর নদী নিরাপদ নয় বলে মনে করেন তাঁরা।

নূর আলম শেখের দাবি, সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে পশুর নদীর মাছের দেহে সিসা, তামা ও পারদের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। কয়লা ও শিল্পদূষণকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, ডুবে যাওয়া জাহাজের কয়লা জোয়ারের পানিতে ছড়িয়ে পড়লে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পশুর নদীর জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, বারবার কয়লা ও তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনা সুন্দরবনের পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

নৌপথ স্বাভাবিক, উদ্ধারের উদ্যোগ

দুর্ঘটনার পর পশুর চ্যানেলে নৌযান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও মূল নৌপথে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, পশুর চ্যানেলের মূল নৌপথ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং এ পথে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক আছে। ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারে মালিকপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র : সমকাল 

  • সর্বশেষ