শিরোনাম
◈ হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের, ইরানের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ◈ বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করবে জাপান, ৫ বছরে ২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ◈ চীনকে মোকাবিলায় মেগা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের, যে কারণে প্রতিবাদ করছে অরুণাচলের তরুণ প্রজন্ম ◈ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ◈ নতুন বেতনকাঠামো: ১ নভেম্বর বকেয়াসহ বেতন পাবেন যারা, বঞ্চিত হবেন অনেকেই ◈ ইশরাকের আলোচিত মাদকবিরোধী অভিযানের পর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ◈ মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা, আইজিপির বক্তব্য ও অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা (ভিডিও) ◈ পুতিনের প্রাসাদ ঘিরে নতুন ১৫টি আকাশ প্রতিরক্ষা টাওয়ার, নিরাপত্তায় ৫০ স্থাপনা ◈ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা ◈ ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে ৪ মাস ধরে বন্ধ ডিএপি সার কারখানা, মাসে লোকসান ১৫ কোটি টাকা

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:১৬ দুপুর
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৪ দুপুর

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

চীনকে মোকাবিলায় মেগা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের, যে কারণে প্রতিবাদ করছে অরুণাচলের তরুণ প্রজন্ম

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে: চীনের বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মোকাবিলায় ব্রহ্মপুত্র নদের উপনদী সিয়াংয়ে ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ভারত। তবে অরুণাচল প্রদেশের আদিবাসী আদি সম্প্রদায়ের বিরোধিতায় প্রকল্পটি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে দিয়েছে এ খবর।

গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সিয়াং জেলায় বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বাসভবন, একটি পুলিশ স্টেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (এনএইচপিসি) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সহিংসতার পর কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ২৫০ সদস্যের র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) দুটি কোম্পানি অরুণাচল প্রদেশে পাঠিয়েছে।

Advertisement

সিয়াং নদীর উৎপত্তি তিব্বতে। অরুণাচল প্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীটি ব্রহ্মপুত্রের অংশ হয়েছে। পরে আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে নদীটি। ভারতের প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের (এসইউএমপি) আওতায় পূর্ব সিয়াং জেলায় বাঁধটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন বাঁধ নির্মাণ করতে চায় ভারত?

ভারতের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে তিব্বতে চীনের বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চীন তিব্বতের মেদোগ এলাকায় একটি বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্পটিতে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট। নির্মাণ শেষ হলে এটি বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হতে পারে।

ভারতের আশঙ্কা, উজানে নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা চীনের হাতে থাকলে ভাটির দেশগুলোতে পানির নিরাপত্তা ও বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রভাবিত হতে পারে। পানির প্রবাহ পরিবর্তন, পানি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া কিংবা হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ছেড়ে দেওয়ার মতো ঘটনা এ ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করছে।

ভারতের প্রস্তাবিত সিয়াং বাঁধে প্রায় ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চীনের মেদোগ প্রকল্পের সম্ভাব্য ধারণক্ষমতা প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনমিটার।

ভারত সরকারের দাবি, সিয়াং বাঁধ নির্মিত হলে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দেশের পানির নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।

কেন বিরোধিতা করছেন স্থানীয়রা?

আদি সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বাঁধ নির্মাণের ফলে তাদের পূর্বপুরুষের জমি ও বসতভিটা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে জীবিকা, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে স্থানীয় সাংবাদিক টোঙ্গাম রিনা বলেন, সিয়াং নদীকে কেন্দ্র করে প্রকল্পবিরোধী আন্দোলন প্রায় ৪০ বছর ধরে চলছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, প্রাথমিক সমীক্ষার অনুমতি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে বাঁধ নির্মাণের পথ আরও সহজ হয়ে যাবে। তাদের দাবি, কয়েকটি পরিবারের সম্মতি প্রকল্পের জন্য পুরো গ্রামসমাজের অনুমোদনের বিকল্প হতে পারে না। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ও গ্রামসমাজের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু বলেছেন, বাঁধ নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। প্রস্তাবিত সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্পটির কারিগরি ও ভূতাত্ত্বিক সম্ভাব্যতা, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে এর সম্ভাব্য ভূমিকা যাচাই করা হবে। সমীক্ষাটি ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস চলার কথা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উপযোগী বলে বিবেচিত হলেও পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

চীনের বাঁধ নিয়ে ভূমিকম্পের উদ্বেগ

চীনের মেদোগ প্রকল্প নিয়ে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকিও রয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকার নিচে সক্রিয় পাইঝেন ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি রয়েছে। এটি ভূমিকম্পের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে ওই গবেষণায় বাঁধটি ধসে পড়বে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। বরং প্রকল্প এলাকার ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

সব মিলিয়ে সিয়াং বাঁধ নিয়ে বিরোধে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্ন মুখোমুখি হয়েছে।

  • সর্বশেষ