পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করতে পারে সৌদিয়া এয়ারলাইনস। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
সৌদি এয়ারলাইনসের বরাতে বেবিচক জানায়, 'ইনশাআল্লাহ সবকিছু ঠিক থাকলে আশা করি আগামীকাল থেকে সৌদিয়া এয়ারলাইনস রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করবে।'
এদিকে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে এখন পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১৪৬টি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বেবিচকের এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্টের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্টের স্কোয়াড্রন লিডার সাকিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাহত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৯টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিঘ্নের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। সংস্থাটির ২৯টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, রিয়াদ এয়ারের ১১টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিঘ্ন ঘটেছে ইন্ডিগোর ফ্লাইট চলাচলে। সংস্থাটির ৩০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, এয়ার ইন্ডিয়া ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি করে, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার খবরের পর যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইটের স্থগিতাদেশ ৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
গত ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান সৌদি আরবগামী এবং সেখান থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গত ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ সেবা ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা-মদিনা রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও ফ্লাইটসূচি সম্পর্কে যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অক্টোবরের শুরুতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সেসময় বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এসব হামলায় হতাহত হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে সৌদি আরবজুড়ে ব্যাপকসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ২৫ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় কয়েকটি রুটে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে বা এর মেয়াদ বাড়িয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস।