শিরোনাম
◈ হালাল পণ্যের ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ববাজার, বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে? ◈ এনবিআরের অনুমতির অপেক্ষায় ২ বছর, ফিরতে পারছে না ভারতীয় দুই জাহাজ ◈ নেদারল‌্যান্ড‌সের আধিপত্য ভেঙে মেয়েদের হকি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ◈ বাংলাদেশ সফরে আসতে ইংল‌্যান্ড টাকার চিন্তা করছে না! ◈ অবশেষে দেশে আসছে ডিজিটাল ব্যাংক, অনুমোদন পেতে যাচ্ছে ৮ প্রতিষ্ঠান ◈ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ বাতলে দিল চীন ◈ সিআইপি হওয়ার নতুন নীতিমালা: যোগ্যতা, সুবিধা ও অযোগ্যতার তালিকা ◈ নামিবিয়ার কাছে পরাস্ত হওয়ার পর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকা  ◈ সি‌লে‌টের দক্ষিণ সুরমায় পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা আছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ◈ প্রজ্ঞাপনের আগেই জানা গেল সম্ভাব্য পে-স্কেল, কার বেতন কত

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৬ সকাল
আপডেট : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৫৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টাঙ্গুয়ারের আমেজ মিলবে ঢাকার কাছেই, ঘুরে আসুন নৌভ্রমণের ৭ দারুণ গন্তব্য

দিগন্তজোড়া পানি, নৌকার দোলা আর খোলা আকাশ—টাঙ্গুয়ার হাওরের সেই মুগ্ধতা পেতে প্রতিবারই দূরের কোনো হাওরপাড়ে ছুটতে হবে, এমন নয়। বর্ষায় রাজধানীর আশপাশের নদী ও জলাভূমিগুলোও বদলে যায় অন্যরকম এক জলজ ভূদৃশ্যে। শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে নৌকায় কিছুটা সময় কাটানো, পানির ওপর ভেসে সূর্যাস্ত দেখা কিংবা নদীর বাতাসে বিকেলটা হারিয়ে যাওয়া—সবই হতে পারে একদিনের ছোট্ট ভ্রমণের অংশ।

কোথাও নদীর বুকজুড়ে খোলা পানি, কোথাও দুই পাড়ের সবুজে ঘেরা শান্ত স্রোত, আবার কোথাও শহরের কাছেই লেকের ধারে বিকেল কাটানোর সুযোগ। বন্ধু, পরিবার কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে তাই খুব বেশি দূরে না গিয়েও পাওয়া যেতে পারে ‘মিনি টাঙ্গুয়ার হাওর’-এর মতো জলভ্রমণের আমেজ।

কোন ধরনের জায়গায় গেলে নৌকার দোলা ও খোলা আকাশের অনুভূতি বেশি পাবেন, কোথায় মিলবে তুলনামূলক কম খরচে নৌভ্রমণ, কোথায় আবার নদীর সঙ্গে সূর্যাস্ত কিংবা সবুজ প্রকৃতি— জেনে নিন ঢাকার আশপাশের এমন কয়েকটি জলভ্রমণের সম্ভাব্য গন্তব্য, যাওয়ার পথ, আনুমানিক খরচ ও উপযুক্ত সময়।

১. বিরুলিয়া–তুরাগ নদী : শহরের কাছেই নদীর হাওয়া
মিরপুরের কাছাকাছি হওয়ায় নগরবাসীর জন্য বিরুলিয়া–তুরাগ হতে পারে দ্রুত নৌভ্রমণের সহজ ঠিকানা। নদীর পানি, দুই পাড়ের সবুজ আর বিকেলের নরম আলো— সব মিলিয়ে ব্যস্ত ঢাকার বাইরে অন্যরকম একটা আবহ তৈরি হয়।

ঠিকানা : বিরুলিয়া, সাভার, ঢাকা; তুরাগ নদীর তীর।

কীভাবে যাবেন : মিরপুর-১ বা মিরপুর-১০ থেকে বিরুলিয়া বা আশুলিয়াগামী বাস/স্থানীয় যানবাহনে বিরুলিয়া ব্রিজ বা বিরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসুন। সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় স্থানীয় নদীর ঘাটে যেতে পারবেন। গাবতলী–আমিনবাজার হয়েও বিরুলিয়ায় যাওয়া যায়।

ঘাটে পৌঁছে মাঝির সঙ্গে আগে ঠিক করে নিন— কতক্ষণ নৌকায় থাকবেন, কয়জন যাবেন এবং মোট ভাড়া কত।

খরচ : নৌকার আকার, সময় ও যাত্রীর সংখ্যার ওপর ভাড়া নির্ভর করে। দলবেঁধে গেলে রিজার্ভ নৌকার খরচ ভাগ করে নেয়া সুবিধাজনক।

সেরা সময় : বিকেল ৪টা থেকে সূর্যাস্ত। বর্ষায় পানির বিস্তৃতি বাড়লে দৃশ্য আরও জমে ওঠে।

২. রামেরকান্দা, কেরানীগঞ্জ : গ্রামীণ আবহে নৌকার দোলা
ঢাকার একেবারে পাশেই একটু গ্রামীণ পরিবেশ আর নদীর হাওয়া চাইলে রামেরকান্দা হতে পারে আপনার গন্তব্য। নৌকায় বসে চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করাই এখানে মূল আকর্ষণ।

ঠিকানা : রামেরকান্দা, রুহিতপুর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

কীভাবে যাবেন : প্রথমে পোস্তগোলা এলাকায় আসুন। পোস্তগোলা ব্রিজ পার হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে যান। এরপর অটো, সিএনজি বা রিকশায় রুহিতপুর/রামেরকান্দা এলাকায় পৌঁছান। স্থানীয়দের কাছে কাছের নদীর ঘাটের কথা জিজ্ঞেস করলে পথ দেখিয়ে দিতে পারবেন।

ঘাটে গিয়ে মাঝির সঙ্গে নৌকা, সময় ও ভাড়া ঠিক করুন। দল বড় হলে পুরো নৌকা রিজার্ভ করে খরচ ভাগ করে নেয়া ভালো।

আনুমানিক খরচ : জনপ্রতি ৩০০–৭০০ টাকা বাজেট রাখতে পারেন। স্থানীয় ভাড়া মৌসুম ও নৌকার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

সেরা সময় : বিকেল ৩টা–৬টা।

৩. সারিঘাট, কেরানীগঞ্জ : নৌকা, কায়াকিং—দুই মজাই
শুধু নৌকায় ঘোরা নয়, পানিতে একটু অ্যাডভেঞ্চারও চাইলে সারিঘাট তালিকায় রাখতে পারেন। নৌভ্রমণের পাশাপাশি কায়াকিংয়ের সুযোগও পাওয়া যেতে পারে।

ঠিকানা : সারিঘাট, কেরানীগঞ্জ; পোস্তগোলা ব্রিজের ওপারে হাসনাবাদ এলাকার দিকে।

কীভাবে যাবেন : যাত্রাবাড়ী বা জুরাইন রেলগেট এলাকায় আসুন। সেখান থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পার হয়ে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় যান। এরপর স্থানীয় সিএনজি বা অটোরিকশায় সারিঘাটে যেতে পারবেন।

ঘাটে পৌঁছে নৌকা বা কায়াকিংয়ের বর্তমান ভাড়া জেনে নিন। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী নৌভ্রমণের ভাড়া প্রায় ১০০–২০০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে; তবে যাওয়ার পর কথা বলে ভাড়া চূড়ান্ত করে নিন।

সেরা সময় : বিকেল ৩টা–৫টা।

৪. মেঘনা নদীর পাড় : টাঙ্গুয়ার ফিল চাইলে এগিয়ে রাখুন
খোলা পানি আর দিগন্তজোড়া জলরাশি— এই দুটোই যদি আপনার মূল চাওয়া হয়, তাহলে তালিকার শীর্ষে রাখতে পারেন মেঘনা নদীকে।

বর্ষায় মেঘনার বুক যেন আরও বিস্তৃত হয়ে যায়। নৌকা নিয়ে একটু দূরে গেলেই চারপাশে শুধু পানি আর আকাশ— শহরের কোলাহল তখন অনেক দূরের ব্যাপার।

ঠিকানা : মেঘনা ব্রিজ ও সোনারগাঁ সংলগ্ন মেঘনা নদীর বিভিন্ন ঘাট।

কীভাবে যাবেন :ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে প্রথমে যাত্রাবাড়ী বা সাইনবোর্ড এলাকায় আসুন। সেখান থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে মেঘনা ব্রিজের দিকে যাওয়া বাস/গাড়িতে উঠুন। নির্ধারিত ঘাটের কাছাকাছি নেমে স্থানীয় সিএনজি বা অটোরিকশায় ঘাটে পৌঁছান।

ঘাটে গিয়ে মাঝির সঙ্গে নৌভ্রমণের সময়, রুট ও মোট ভাড়া ঠিক করুন।

আনুমানিক খরচ : দলবেঁধে নৌকা রিজার্ভ করলে জনপ্রতি প্রায় ৫০০–১,০০০ টাকা বাজেট রাখতে পারেন। যাতায়াত ও খাবারের খরচ আলাদা।

সেরা সময় : বর্ষায় বিকেল ৩টা–৬টা।

সতর্কতা : নদী উত্তাল বা আবহাওয়া খারাপ থাকলে নৌভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।

৫. সোনারগাঁ–মেঘনা : এক ট্রিপে ইতিহাস + নদী
একদিনে একটু বেশি কিছু দেখতে চাইলে সোনারগাঁ–মেঘনা রুট হতে পারে জমজমাট প্যাকেজ। সকালে ঐতিহাসিক সোনারগাঁ ঘুরে বিকেলে মেঘনার বুকে নৌকা— দিনটাও ভরে যাবে, ছবির গ্যালারিও।

ঠিকানা : সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ থেকে মেঘনা নদীর বিভিন্ন ঘাট।

কীভাবে যাবেন :সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে সোনারগাঁয়ের উদ্দেশে রওনা দিন। মোগরাপাড়া এলাকায় নেমে পানাম নগরসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিন। এরপর বিকেলে সিএনজি/অটোরিকশায় মেঘনার কাছের কোনো ঘাটে যান।

ঘাটে গিয়ে নৌকা রিজার্ভ করে নদীতে ঘুরে সন্ধ্যার আগে ফিরতে পারেন।

আনুমানিক খরচ : যাতায়াত, খাবার ও নৌকা মিলিয়ে জনপ্রতি প্রায় ৭০০–১,৫০০ টাকা বা তার বেশি।

সেরা সময় : সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে বের হয়ে বিকেলে মেঘনায় নৌভ্রমণ।

৬. ৩০০ ফিট, পূর্বাচল : কম সময়ে জলভ্রমণ
দূরে যেতে ইচ্ছা করছে না, আবার বিকেলটা পানির ধারে কাটাতে চান। তাহলে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট হতে পারে সহজ অপশন।

ঠিকানা : ৩০০ ফিট সড়ক, পূর্বাচল নিউ টাউন এলাকা।

কীভাবে যাবেন :প্রথমে কুড়িল বিশ্বরোডে আসুন। সেখান থেকে ৩০০ ফিট সড়ক ধরে পূর্বাচল/কাঞ্চন ব্রিজের দিকে যান। বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাইক বা রাইড শেয়ারিং— সবভাবেই যাওয়া যায়। এলাকায় পৌঁছে স্থানীয় কাঞ্চন বাজার চলে যান।

আনুমানিক খরচ : নৌকার ধরন ও সময় অনুযায়ী ভাড়া পরিবর্তিত হয়। জনপ্রতি ১০০–২০০ টাকা বাজেট ধরে যেতে পারেন।

সেরা সময়: বিকেল ৪টা থেকে সূর্যাস্ত।

৭. হাতিরঝিল : ঢাকার ভেতরেই পানির গল্প
ঢাকা ছাড়ার সময় নেই। তাহলে হাতিরঝিল। টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো প্রাকৃতিক জলাভূমি না হলেও শহরের মধ্যে লেক, নৌযান ও রাতের আলোকসজ্জা মিলিয়ে এটি হতে পারে সহজ বিকেলের গন্তব্য।

ঠিকানা : হাতিরঝিল, ঢাকা।

কীভাবে যাবেন :রামপুরা, বাড্ডা, মগবাজার কিংবা এফডিসি— যেদিক থেকেই আসুন, বাস, রিকশা, সিএনজি বা রাইড শেয়ারিংয়ে হাতিরঝিলে যেতে পারবেন। নৌযানে উঠতে চাইলে নির্ধারিত ওয়াটার ট্যাক্সি টার্মিনাল গিয়ে টিকিট কেটে পুরো ঝিল ঘুরে দেখতে পারবেন।

সেরা সময় : বিকেল থেকে রাত। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জা বাড়তি আকর্ষণ।

সাধারণত বর্ষাকালই নৌকা ভ্রমণের সেরা। এ সময় নদী ও জলাশয়ে পানির পরিমাণ বাড়ে, চারপাশের প্রকৃতিও থাকে সবুজ। দিনের মধ্যে বিকেল ৩টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় নৌভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এতে একসঙ্গে নদীর বাতাস, নরম আলো এবং সূর্যাস্ত— তিনটাই পাওয়া যায়।

ঢাকার কাছাকাছি ছোট নৌভ্রমণের জন্য মোটামুটি জনপ্রতি ৩০০–৮০০ টাকা বাজেট ধরে যেতে পারেন। মেঘনা বা সোনারগাঁয়ের মতো একটু দূরের ট্রিপে যাতায়াত, খাবার ও নৌকা মিলিয়ে ৭০০–১,৫০০ টাকা বা তার বেশি লাগতে পারে।

তবে এগুলো আনুমানিক বাজেট। স্থানীয় নৌকার ভাড়া সময়, মৌসুম, নৌকার আকার, রুট ও যাত্রীর সংখ্যার ওপর বদলে যেতে পারে।

নৌকায় ওঠার আগে ৫টি বিষয় নিশ্চিত করুন

  • মোট ভাড়া কত এবং সেটি পুরো নৌকার নাকি জনপ্রতি— জেনে নিন।
  • কতক্ষণ নৌকায় ঘুরবেন, আগে ঠিক করুন।
  • নৌকায় সর্বোচ্চ কতজন উঠতে পারবেন, নিশ্চিত করুন।
  • প্রত্যেকের জন্য লাইফ জ্যাকেট আছে কি না দেখে নিন।
  • বর্ষায় বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন।

এগুলো টাঙ্গুয়ার হাওরের বিকল্প নয়। তবে সুনামগঞ্জে না গিয়েও ঢাকার কাছাকাছি নদীর হাওয়া, নৌকার দোলা, খোলা আকাশ আর সূর্যাস্তের ছোট্ট স্বাদ নিতে চাইলে জায়গাগুলো হতে পারে দারুণ একদিনের পালানোর ঠিকানা।

সূত্র: স্টার নিউস 

  • সর্বশেষ