দুবাই ও আবুধাবিতে বসবাসকারীদের জন্য ইউরোপ, যুক্তরাজ্য কিংবা উত্তর আমেরিকায় ভ্রমণ যেন হাতের নাগালেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো-প্রতিবছর হাজারো প্রবাসীর ভিসা আবেদন বাতিল হয় বা দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকে। ছুটি নেয়া, টিকিট কাটা, সব প্রস্তুতির পর হঠাৎ ভিসা প্রত্যাখ্যান বা দীর্ঘ নীরবতা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে নষ্ট করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা কর্মকর্তারা আবেদন যাচাইয়ের সময় ‘হ্যাঁ’ বলার কারণ খোঁজেন না; বরং ‘না’ বলার সম্ভাব্য কারণগুলোই খতিয়ে দেখেন। তাই শুধু কাগজপত্র জমা দিলেই হয় না, আবেদনটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাও জরুরি। খবর গালফ নিউজের।
ভিসা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্রাইটস্টার ভিসার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুবাই ও আবুধাবির বাসিন্দারা মূলত তিন জায়গায় ভুল করেন। প্রথমত, ব্যাংক ব্যালান্স। আবেদনকারীরা অনেক সময় হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা জমা দেখান, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। ভিসা অফিসাররা নিয়মিত আয় ও ব্যয়ের ধারাবাহিকতা দেখতে চান।
দ্বিতীয়ত, ভ্রমণ পরিকল্পনা। কপি-পেস্ট করা বা অবাস্তব ভ্রমণসূচি আবেদনকে দুর্বল করে তোলে। খুব অল্প সময়ে অনেক দেশ ঘোরার পরিকল্পনাও সন্দেহজনক মনে হতে পারে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশে ফেরার প্রমাণ। শুধু চাকরির এনওসি যথেষ্ট নয়; বাসার চুক্তি, পরিবার, দীর্ঘমেয়াদি চাকরি-এসব শক্ত চুক্তি প্রমাণ দরকার।
ব্রাইটস্টার ভিসার সিইও আরিফ শেখ বলেন, 'ভিসা আবেদন আসলে একটি আইনি যুক্তি। কাগজে যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে-সেটাই আমাদের লক্ষ্য।' তার মতে, সঠিক ব্যাখ্যা, স্বচ্ছ তথ্য ও ভালো কভার লেটার থাকলে প্রত্যাখ্যানও অনুমোদনে রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-ভিসা আবেদনকে শুধু ফরম পূরণের কাজ না ভেবে, একটি শক্ত ও পরিষ্কার ‘কেস’ হিসেবে উপস্থাপন করলেই সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে। চ্যানেল24