মনিরুল ইসলাম: শোবিজে পথচলার শুরু থেকে দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে আবারও নতুন করে পথচলা শুরু।একজন শিল্পীর জীবনে এমন মুহূর্ত নিঃসন্দেহে আবেগের। পুরোনো স্মৃতি, দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং নতুন করে কাজ শুরুর আনন্দ—সব মিলিয়ে সেই অনুভূতিই প্রকাশ পেয়েছে অভিনেতা ও নায়ক আদনান আজাদ এর এক
আবেগঘন বক্তব্যে। বলেন, ১৮ বছর আগে যার হাত ধরে নায়ক হিসেবে পথচলা শুরু হয়েছিল, জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসও শুরু হলো তাঁর সঙ্গেই।
যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘১৮ বছর আগে নায়কগিরি শুরু করেছিলাম তোমার হাত ধরে। এরপর অনেক লম্বা বিরতি। লাইফের সেকেন্ড ইনিংসও শুরু হলো তোমার সাথে।’
বক্তব্যের শেষে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, পাশাপাশি কোয়াডরে মাহফুজ (Quadrey Mahfuz) ও কবির ছোঁয়াকে (Kobir Chowa)।
১৮ বছরের স্মৃতি, নতুন করে পথচলা
একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারে ১৮ বছর দীর্ঘ সময়। এই সময়ে বদলে যায় চলচ্চিত্রের ধরন, দর্শকের রুচি, কাজের পরিবেশ এবং বিনোদনজগতের বাস্তবতা। সময়ের ব্যবধানে অনেক শিল্পীর ক্যারিয়ারে বিরতি আসে। কেউ আবার নতুন উদ্যমে ফিরে আসেন।
আদনান আজাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে কাজ শুরু করার অনুভূতি। তাঁর কথায়, অতীতের সঙ্গে বর্তমানের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। যে পরিচয় ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে তাঁর নায়ক হিসেবে পথচলা শুরু হয়েছিল, নতুন অধ্যায়েও সেই সম্পর্ককে স্মরণ করেছেন তিনি।
অপু বিশ্বাসকে বিশেষ ধন্যবাদ
ঢালিউডের পরিচিত মুখ অপু বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁকে দেখা গেছে।
ওই অভিনেতার বক্তব্যে অপু বিশ্বাসকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানোর বিষয়টি নজর কেড়েছে। ১৮ বছর আগের স্মৃতির সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত করে নতুন করে পথচলার কথা বলায় বিষয়টি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের নতুন কোন সিনেমায় অভিনয়, জুটি হিসেবে প্রত্যাবর্তন কিংবা নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে জানান।
এদিকে, অভিনয় ছাড়াও 'রেপটাইল ম্যান অব বাংলাদেশ' নামে পরিচিত আদনান আজাদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করে আসছেন। গত ২৮ বছর ধরে লোকালয় ও মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়া অসংখ্য সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
এ ছাড়া বন্যহাতির নিরাপদ চলাচলের করিডোর সংরক্ষণের দাবিতে ২০২১ সালে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই রিটের পরবর্তী সময়ে বুনো হাতি সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি আদনান আজাদ দেশের অন্যতম বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী হিসেবেও পরিচিত।