শিরোনাম
◈ গত বছরের তুলনায় কমেছে খুন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতা: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল, নভেম্বরে ভোট: সিইসি ◈ গঙ্গা চুক্তি নবায়ন ও তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি: সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কৌশলগত বার্তা ◈ কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক: ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ◈ নিম্নমানের কাজ রুখতে ৩০ প্রকল্পে সমস্যা চিহ্নিত, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ◈ শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা জোরদার হলে বাড়বে কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ: মাহ্দী আমিন ◈ ট্রেজারি বেঞ্চে আসনবিন্যাসে পরিবর্তন: ফখরুলের স্থানে সালাহউদ্দিন ◈ যুবলীগের পরশ ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ◈ সংসদে চরম হট্টগোল, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্পিকার (ভিডিও) ◈ নেপালে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে পড়তে পারে হ্রদের বাঁধ

প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৬ বিকাল
আপডেট : ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:২২ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

"ভালোবাসা নয়, ছিল অবমূল্যায়ন, প্রথম সংসার নিয়ে মৌসুমীর স্বীকারোক্তি”

মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী  সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় তুলে ধরেছেন। প্রথম দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সম্পর্কের ভেতরে ক্রমাগত মানসিক আঘাত কীভাবে তার আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দিয়েছিল।

এক পডকাস্টে মৌসুমী হামিদ বলেন, বিয়ের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই তিনি নিজের সৌন্দর্য নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেন। “আমি নিজেকে সুন্দর মনে করতাম না। এমনকি আয়নায় তাকানোও বন্ধ করে দিয়েছিলাম,”—বলেন এই অভিনেত্রী। শুটিংয়ের প্রয়োজন ছাড়া আয়নায় নিজেকে দেখতেন না বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, এই অভিজ্ঞতা ছিল “অত্যন্ত কষ্টের”।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার জীবনসঙ্গীই তাকে বারবার এমন অনুভূতি দিয়েছেন যে তিনি আকর্ষণীয় নন, সুন্দর নন। অথচ সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। “আমি ভেবেছিলাম, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যার সংসার করার ইচ্ছাই নেই, তার সঙ্গে কীভাবে থাকা সম্ভব?”—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মৌসুমী হামিদের দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তার সঙ্গী এমন আচরণ করতে শুরু করেন, যা তাকে বাধ্য করে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে। এই অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

অভিনেত্রীর এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত গল্প নয়, বরং সমাজের একটি বড় বাস্তবতার প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কাউকে বারবার “অসুন্দর”, “মোটা”, “কালো” বা “আকর্ষণহীন” বলা মানসিক নির্যাতনের একটি রূপ, যা ধীরে ধীরে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সম্পর্কের ভেতরে এমন নেতিবাচক মন্তব্য দীর্ঘমেয়াদে আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ করে এবং ব্যক্তি নিজেকে অযোগ্য বা অপ্রয়োজনীয় মনে করতে শুরু করেন। এই ধরনের মানসিক চাপ অনেক সময় বিষণ্নতা বা আত্মবিশ্বাসহীনতার দিকে ঠেলে দেয়।

এই ঘটনা শুধু একজন অভিনেত্রীর জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের অসংখ্য নারী প্রতিদিন একই ধরনের মানসিক চাপে জীবন কাটান। পারিবারিক বা দাম্পত্য সম্পর্কে অবমূল্যায়ন, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে কটূক্তি তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান ও মানসিক নিরাপত্তা। সেখানে কাউকে ছোট করা বা হীনমন্যতায় ভোগানো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

মৌসুমী হামিদের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি একদিকে যেমন তার ব্যক্তিগত সাহসের পরিচয় দেয়, অন্যদিকে সমাজের এক গভীর সমস্যাকেও সামনে নিয়ে আসে। সম্পর্কের ভেতরে সম্মান, ভালোবাসা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে সেই সম্পর্ক টেকসই হয় না—এই বার্তাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন এই অভিনেত্রী।

  • সর্বশেষ