শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বরফ গলছে, দিল্লি সফরে বার্তা নিয়ে ফিরছেন ত্রিবেদী ◈ প্রযোজক সমিতির নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন তুললেন আরশাদ আদনান: ‘আগে সিনেমা, তারপর নেতৃত্ব’ ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে জল্পনা, নীরব কৌশলে শীর্ষ পর্যায়ে তৎপরতা ◈ মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বীরদের তালিকা তৈরিতে নতুন উদ্যোগ সরকারের ◈ বাংলাদেশের বিরু‌দ্ধে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা ◈ তিন কারণে দেশে বেড়েছে লোডশেডিং ◈ শপিং মল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও নাম ঘোষণা কাল ◈ বালু থেকে চিপ শিল্পের পথে বাংলাদেশ : ৮ নদীর বালুতে সেমিকন্ডাক্টরের সম্ভাবনা, সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৬০০ নমুনা ◈ ২০০ কি.মি.র ভোগান্তি শেষ: যমুনায় ২ নদীবন্দরে বদলে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০১:৫৬ রাত
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০২:২৫ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

প্রযোজক সমিতির নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন তুললেন আরশাদ আদনান: ‘আগে সিনেমা, তারপর নেতৃত্ব’

মনিরুল ইসলাম: চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে যখন শিল্পী ও প্রযোজকদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চিন্তাশীল পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ব্যবসাসফল সিনেমা ‘প্রিয়তমা’-র প্রযোজক আরশাদ আদনান।

আরশাদ আদনান সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের ছেলে। ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার মহরত বঙ্গভবনে আয়োজন করা নিয়েও এর আগে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। এছাড়া স্থগিত হওয়া চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।

তখন চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুঞ্জন ছিল, প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে পরে আর তেমন আলোচনা হয়নি।

বুধবার (১৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আরশাদ আদনান নিজেকে একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে উল্লেখ করে প্রযোজক সমিতির নির্বাচন ও প্রার্থীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, ২১টি পদের বিপরীতে ৪২ জন প্রার্থী থাকলেও গত পাঁচ-ছয় বছরে তাঁদের মধ্যে কতজন সক্রিয়ভাবে সিনেমা প্রযোজনা করেছেন?

আরশাদ আদনানের মতে, যাঁদের প্রধান পরিচয় প্রযোজক, তাঁদের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং এই শিল্পকে সচল রাখা। কিন্তু বাস্তবে মূল কাজের চেয়ে নেতৃত্বের পদে আসার আগ্রহই যেন বেশি দেখা যাচ্ছে।

পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের তো সবার আগে সিনেমা বানানোর কথা ছিল, শিল্পকে সচল রাখার কথা ছিল। অথচ আমরা যেন মূল কাজের চেয়ে নেতৃত্বের প্রতিই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছি।”

তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্রে নেতৃত্ব অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেই নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান যোগ্যতা হওয়া উচিত নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রযোজনায় সক্রিয় থাকা এবং শিল্পে বাস্তব অবদান রাখা।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই তাঁর এই বক্তব্যকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রযোজনা কমে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগের ঘাটতি এবং হল সংকটের মতো সমস্যার মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সক্রিয় প্রযোজকদেরই নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আরশাদ আদনান শুরুতে প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং সাম্প্রতিক এই পোস্ট দুটিই নতুন করে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সন্তান হওয়ার পাশাপাশি ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে একজন সফল প্রযোজক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন আরশাদ আদনান।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, আরশাদ আদনানের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মতামত নয়; এর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা ও সংকটের একটি দিকও উঠে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে তাঁর এই প্রশ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গি কতটা প্রভাব ফেলে।

আরশাদ আদনানের বার্তা স্পষ্ট, নেতৃত্বের আগে প্রয়োজন কাজ, আর সেই কাজ হলো সিনেমা নির্মাণ। শিল্প বাঁচলেই নেতৃত্বের অর্থ তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, আইনি জটিলতা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাঁর এই বক্তব্যকে কীভাবে দেখেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়