মনিরুল ইসলাম: দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন করে গতিশীল করতে (বিএফডিসি)-কে আধুনিক ও প্রকৃত সিনেমাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুমা রহমান তানি।
সোমবার গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বিএফডিসিকে আরও কার্যকর, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে কাজ করছেন তিনি। “আমি চাই যারা সিনেমা বানাবেন তারা এফডিসিতে আসুন। এখানে এসে যেন তারা সব ধরনের সেবা নিতে পারেন,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বেসরকারি লোকেশনের তুলনায় কম খরচে বিএফডিসিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সম্ভব। তাই নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান স্টুডিও, শুটিং ফ্লোর, পোস্ট-প্রোডাকশন সুবিধাসহ আধুনিক অবকাঠামোকে কাজে লাগাতে হবে।
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথাও তুলে ধরেন এমডি তানি। তার মতে, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র খাতকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিএফডিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিএফডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ প্রসঙ্গে তানি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের অনেক সহকর্মী বকেয়া টাকার জন্য কষ্টে ছিলেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২১ সাল পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি।”
জানা গেছে, সম্প্রতি তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের বকেয়ার চেক গ্রহণ করেছেন। বিষয়টিকে নিজের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি। অবশিষ্ট বকেয়া পর্যায়ক্রমে পরিশোধের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তানি।
তথ্য উপদেষ্টার বিএফডিসি পরিদর্শন
এদিকে, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান বিএফডিসি পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি নির্মাণাধীন কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি, শিল্পী সমিতি ও পরিচালক সমিতির স্টাডিরুম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি সমিতিগুলোর নির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাজের পরিবেশ, সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে—সে বিষয়ে খোলামেলা মতামতও জানতে চান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির এমডি মাসুমা রহমান তানি। তথ্য উপদেষ্টা চলচ্চিত্র নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার চলচ্চিত্রের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রত্যাশা করেন আন্তর্জাতিক ভাবে আমাদের চলচ্চিত্র যাতে সুনাম বয়ে নিয়ে আসে তাতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট থাকতে হবে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বিএফডিসিকে নতুনভাবে সাজানো গেলে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।