মনিরুল ইসলাম: চলচ্চিত্রপাড়া এফডিসিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে আসন্ন সিনেমা ‘বাসর হবে মাটির ঘরে’। ছবিটির শুটিং চলাকালে হঠাৎ সেটে উপস্থিত হন দেশের বরেণ্য নির্মাতা এফ আই মানিক। তার আগমনে পুরো শুটিং ইউনিটে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রযোজক-পরিচালক সিমি ইসলাম কলির তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন এই সিনেমায় কাজ করছেন একঝাঁক শিল্পী ও কলাকুশলী। শুটিং সেটে কিংবদন্তি এই পরিচালকের উপস্থিতি পুরো ইউনিটের জন্য আনন্দের হলেও বিশেষ করে অভিনেত্রী পলির জন্য মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আবেগঘন।
পলি গণমাধ্যমকে বলেন, “কিংবদন্তি পরিচালক এফ আই মানিকের ছবিতে কাজ করা আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। যখনই উনি কোনো শুটিং ফ্লোরে আসতেন, আমি দূর থেকে তাকিয়ে থাকতাম—একদিন যদি তার ছবিতে কাজ করার সুযোগ পাই! যদিও তার সঙ্গে এখনো কোনো সিনেমায় কাজ করা হয়নি, কিন্তু আজ উনি আমার শুটিংয়ে এসে শুভেচ্ছা জানালেন। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।”
গতকাল শনিবার শুটিং সেটে উপস্থিত হয়ে এফ আই মানিক সিনেমাটির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তার উপস্থিতিতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে পরিচালক এফ আই মানিকের সঙ্গে পলির কথোপকথন এবং পলির আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভিডিওটি দর্শকদের মধ্যেও বেশ সাড়া ফেলেছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের একটি মুহূর্ত শুধু একটি সিনেমার প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে না, বরং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। এখন দেখার বিষয়, ‘বাসর হবে মাটির ঘরে’ সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের কতটা মন জয় করতে পারে।
এফ আই মানিকের ক্যারিয়ার
এফ আই মানিক ঢাকাই চলচ্চিত্রের একজন বরেণ্য নির্মাতা। তার হাত ধরেই শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস জুটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। একসময় এই জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে দর্শকদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।
এফ আই মানিকের পরিচালনায় বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘স্বপ্নের বাসর’ (২০০১), ‘পিতার আসন’ (২০০৬), ‘দাদীমা’ (২০০৬), ‘কোটি টাকার কাবিন’ (২০০৬), ‘চাচ্চু’ (২০০৬), ‘মাই নেম ইজ সুলতান’ (২০১২) এবং ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’ (২০১৩)।
২০০৮ সালে তিনি ‘মায়ের মতো ভাবী’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিভাগে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। তার শুটিং সেটে উপস্থিতি চলচ্চিত্রাঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে।