মনিরুল ইসলাম : ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। গতকাল বুধবার রাতে গুলশান শুটিংক্লাবে এক স্টাইলিশ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপচারিতায় নিজের জীবন, বিতর্ক, গ্রেফতার ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম নিয়ে সরব হন তিনি। এক পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও ইউটিউবারদের উদ্দেশ্যে হালকা মেজাজে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—“আমাকে বিয়ে দিতে চান, না চান না?”—এই প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ‘চাই’ বলে ওঠেন, যা মুহূর্তেই পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরেন পরীমনি। বিশেষ করে ২০২১ সালে বহুল আলোচিত গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলেন। ছিলেন খুবই খোশমেজাজে। হাসিমুখে কথা বলেন পরী।
তিনি বলেন, সেই সময়টা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি। তিনি দাবি করেন, অনেক বিষয় তখনও অজানা থেকে গেছে এবং সময়ই সেসব সত্য ধীরে ধীরে সামনে আনছে।
পরীমনি বলেন, “জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন জাগে। কিন্তু আমি থেমে যাইনি। আমি বেঁচে থেকেছি, লড়াই করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, গত কয়েক বছর তার কাছে ছিল নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সময়। ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার এবং সামাজিক অবস্থান—সবকিছু নিয়েই তাকে নতুন করে ভাবতে হয়েছে।
গ্রেফতারের পরবর্তী সময় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সেই অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে আরও শক্ত করেছে। “অনেকেই ভেবেছিল আমি হয়তো শেষ হয়ে যাবো। কিন্তু আমি শেষ হইনি, বরং নতুনভাবে শুরু করেছি,”—বলেছেন এই অভিনেত্রী।
এ সময় তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। কিছু গণমাধ্যম তার পাশে দাঁড়ালেও, কিছু ক্ষেত্রে ভুল তথ্য প্রচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এখন আর এসব নিয়ে ক্ষোভ না রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাই বলেন।
ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে পরীমনি খোলামেলাভাবেই জানান, জীবন নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী। বিয়ে প্রসঙ্গে করা তার রসিকতাপূর্ণ প্রশ্নের মধ্যেও ছিল জীবনের চাপ ও প্রত্যাশার এক ধরনের প্রতিফলন—মনে করছেন উপস্থিত অনেকেই।
পরীমনির এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ তার সাহসী অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার কেউ তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনাও করছেন। তবে সবকিছুর মধ্যেই স্পষ্ট—তিনি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, এবং নিজের গল্প নিজেই বলতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, পরীমনির এই খোলামেলা বক্তব্য তার ইমেজ পুনর্গঠনের একটি অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করার একটি প্রয়াস, যা তার ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, হাস্যরস, আবেগ, বিতর্ক ও আত্মবিশ্বাস—সবকিছুর মিশেলে পরীমনির এই উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে, তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন; বরং একজন আলোচিত ও প্রভাবশালী জনমানুষ, যিনি নিজের গল্প বলতে ভয় পান না।