শিরোনাম
◈ কলকাতায় সাবেক এমপি বাহার ও তার মেয়ে সূচনার অবস্থান নিয়ে ভিডিও প্রকাশ! ◈ প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ কর্নেল অলির (ভিডিও) ◈ সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন: অর্থমন্ত্রী ◈ শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি, আরও গতিশীল হওয়ার প্রত্যাশা ◈ সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিতদের ফের আবেদন, পর্যালোচনায় ৭ সদস্যের কমিটি ◈ ট্রাম্পের হুমকির পরই ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ৮ ◈ শাপলা চত্বর মামলা: তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা ◈ ‘আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলা’, নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ◈ উগ্রবাদী সংগঠনের প্রশিক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ স্থায়ী বহিষ্কার ◈ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে নতুন রোডম্যাপ, কী থাকছে পরিকল্পনায়

প্রকাশিত : ০৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৯ রাত
আপডেট : ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

শিল্পী সমিতির শপথ অনুষ্ঠান ছিলো তারকাদের অনুপস্থিতি, মুক্তি পরিষদের পরাজিতরা আসেননি

মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর এফডিসি প্রাঙ্গণে। তবে আয়োজনটি ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে শীর্ষ তারকা শিল্পীদের অনুপস্থিতি এবং পরাজিত প্যানেল ‘মুক্তি পরিষদ’-এর নেতাকর্মীদের না দেখা যাওয়া।

সাধারণত এমন আয়োজনগুলোতে সিনিয়র ও জনপ্রিয় শিল্পীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। কিন্তু এবার দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন।

শপথ অনুষ্ঠানে সাধারণ সদস্যদের দেখা গেলেও যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন আসেননি। শুধু এক ঝলক আরমান- মুক্তি পরিষদের পরাজিত সভাপতি আরমানকে দেখা যায়। তাকে মঞ্চে এসে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবার নাম ডাকা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় নবনির্বাচিত সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রতকে বলতে শোনা যায় আরমান ভাই এলে তাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে তার দেখা আর মিলেনি।

চিত্র নায়িকা মুক্তি আসেননি। আসেননি রোজিনা, নূতন, পলি। নির্বাচনের দিন অনেক নায়কে দেখা গেলেও শপথ অনুষ্ঠানে তারা ছিলেন অনুপস্থিত।  নায়ক সোহেল রানা, আলমগীর, উজ্জ্বল,  রুবেল, বাপ্পারাজ, আমিন খান, ড্যানি সিডাক, নানা শাহ, বাপ্পী চৌধুরী,  শহীদুজ্জামান সেলিম,  জাহিদ হাসান, রিনা খান, ডলি জহুর, রন্জিতা, নায়িকা রত্না, আঁচল, আবুল হায়াত, ডাঃ এজাজসহ অনেক সিনিয়র- জুনিয়র শিল্পী। অথচ নির্বাচনী প্রচারণায় যেসব শিল্পীদের সরব থাকতে দেখা গেছে তাদের অধিকাংশই শপথ অনুষ্ঠানে  হাজির হতে দেখা যায়নি। তবে সাধারণ ভোটার শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। বসা জায়গা আগে থেকেই দখলে রাখেন। সাধারন দর্শকের উপস্থিতও ছিলো চোখে পড়ার মতো। অনেককে দাঁড়িয়ে থেকে শপথ অনুষ্ঠান দেখতে দেখা গেছে। 

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভক্তি, অভিযোগ-পাল্টা জবাব  এবং উত্তপ্ত পরিবেশের প্রভাবই এই অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে।

তবে আরমান- মুক্তি পরিষদ থেকে ৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা শপথ নিয়েছে। শুধু ইলিয়াস কোবরা ঢাকার বাইরে থাকায় ছিলেন  অনুপস্থিত। 

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেউ কেউ  বলছেন, এটি চলচ্চিত্র শিল্পী সমাজে বিভাজনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে শপথ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু সকলকে নিয়ে পথচলার কথা বলেছেন। সমিতির বিভিন্ন উপকমিটিতে যারা নির্বাচন করে হেরেছেন তাদের স্থান দেবার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকপ, শিল্পী সমিতির  নির্বাচন ছিল বেশ আলোচিত৷  আর্থিক লেনদেনের অভিযোগসহ নানা বিষয় সামনে এসেছে। এসব ইস্যুর কারণে পরাজিত প্যানেলের অসন্তোষ এখনো প্রশমিত হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের প্রভাবও এ ধরনের বর্জনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।

তাদের মতে, নবনির্বাচিত কমিটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভক্ত শিল্পী সমাজকে একত্র করা। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ও শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করতে হলে সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোনো প্রয়োজন। 
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলেও তারকাদের অনুপস্থিতি এবং মুক্তি পরিষদের অনুপস্থিতি চলচ্চিত্র অঙ্গনের অভ্যন্তরীণ সংকটকেই সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—নতুন কমিটি কত দ্রুত এই দূরত্ব কমিয়ে ঐক্যের বার্তা দিতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়