শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ কর্নেল অলির (ভিডিও) ◈ সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন: অর্থমন্ত্রী ◈ শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি, আরও গতিশীল হওয়ার প্রত্যাশা ◈ সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিতদের ফের আবেদন, পর্যালোচনায় ৭ সদস্যের কমিটি ◈ ট্রাম্পের হুমকির পরই ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ৮ ◈ শাপলা চত্বর মামলা: তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা ◈ ‘আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলা’, নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ◈ উগ্রবাদী সংগঠনের প্রশিক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ স্থায়ী বহিষ্কার ◈ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে নতুন রোডম্যাপ, কী থাকছে পরিকল্পনায় ◈ ব্যয় সংকোচনে কঠোর সরকার : গাড়ি কেনা-ভবন নির্মাণ বন্ধ, সীমিত হচ্ছে বিদেশ সফর

প্রকাশিত : ০৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৮ রাত
আপডেট : ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০১:০২ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন: অর্থমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশের সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা তাদের আমানতের অর্থ সুদসহ ফেরত পাবেন। তিনি 'হেয়ারকাট' (আমানতের অর্থের একটি অংশ কেটে রাখার) কোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ব্যাংকগুলো ক্রমবর্ধমান লোকসানে থাকায় এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে।

জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসন-৪ এর সদস্য রেহানা আখতার রানুর উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।

তিনি বলেন, 'কোনো হেয়ারকাট হবে না। আমানতকারীরা তাদের টাকা ও সুদ—দুটিই ফেরত পাবেন। আমি এ বিষয়ে আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।'

আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সব অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, 'আরও একটু ধৈর্য ধরুন। এসব ব্যাংকই লোকসানে চলছে এবং প্রতিদিন লোকসান বাড়ছে। একটি ব্যাংক যখন আমানতের টাকাই ফেরত দিতে পারে না, তখন সেই ব্যাংকের জন্য সুদ পরিশোধ কতটা কঠিন, তা সহজেই বোঝা যায়।'

তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।

মন্ত্রী বলেন, 'আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব, আমানতকারীরা তাদের মূল অর্থ ও সুদ—উভয়ই পাবেন। তবে এর জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।' ব্যাংকিং সংকটে মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক আমানতকারী চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।

তিনি বলেন, 'আমি জানি মানুষের অপেক্ষা করার সময় নেই। কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। প্রতিদিনই আমি এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।'

তিনি বলেন, এ সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। সুদও পাবেন। এটি নিশ্চিত। তবে সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এর মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক ব্যাংক পুনর্গঠন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি জানান, নতুন আইনের আওতায় আর্থিকভাবে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক—এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ (এক্সিম ব্যাংক) পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি—একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়েছে। এটিকে দেশের ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নবগঠিত ব্যাংকে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে আমানতকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ বীমাকৃত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া আগে আমানত সুরক্ষার আওতার বাইরে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদেরও এ আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, রেজুলেশনের আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করা বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাদের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, পাঁচটি ব্যাংকে ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক নিরীক্ষা চলছে। নিরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আত্মসাৎ করা সম্পদ উদ্ধার এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর ৫৭ ধারার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত আয়, সম্পদ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও অধিকার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, 'এই আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেগুলো বিক্রি বা নিলামের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।'

অর্থমন্ত্রী জানান, ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায় এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার দেওয়ানি কার্যক্রমও শুরু করেছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক গোপনীয়তা চুক্তি (এনডিএ) স্বাক্ষরের পর 'নো উইন, নো ফি' ভিত্তিতে নয়টি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কাজ শুরু করেছে, যারা বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ও খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে কাজ করবে।

মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে এস আলম গ্রুপ, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়েন্ট গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ছয়টি অগ্রাধিকার মামলায় দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সব আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়