শিরোনাম
◈ মগবাজার পেয়ারাবাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেন রেলপথের কাজ চলতে বাধা নেই ◈ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ ইসরায়েলে ইনটেলের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়?

প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১২ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আটকে রাখা মায়ের মুক্তি : সাংবাদিক ও ইউএনওর হস্তক্ষেপে সমাধান

রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি : চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতালে সদ্য সন্তানহারা এক প্রসূতি মাকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের দ্রুত উদ্যোগ এবং উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে অবশেষে মুক্তি পান ওই নারী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর মাঝাপাড়া গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ ছয় দিন বয়সী নবজাতককে নিয়ে গত বুধবার তিনি ল্যাম্ব হাসপাতালে ভর্তি হন। নারী ও শিশু ওয়ার্ডে টানা ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে শিশুটি মারা যায়।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যয়ের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি মাকে ছাড়পত্র দেয়নি। তবে নবজাতকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফলে মায়ের অনুপস্থিতিতেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিশুটির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে হয়।

Advertisement

বিষয়টি মঙ্গলবার বিকেলে জানতে পেরে পার্বতীপুরের স্থানীয় সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেনকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ জন সাংবাদিক হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।

এ সময় ইউএনও সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি বিষয়টির ব্যবস্থা নিচ্ছি।” পরে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক ঘণ্টার মধ্যে প্রসূতি মাকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে ছাড়পত্র দেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “দরিদ্র রোগীদের বিনা খরচে বা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ছাড় দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শোকাহত একজন মাকে এভাবে হাসপাতালে আটকে রাখা অমানবিক।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সংবাদ প্রকাশের আগেই একজন অসহায় প্রসূতি মায়ের মুক্তি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের দ্রুত উদ্যোগ এবং উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ পার্বতীপুরে মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনসেবার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

  • সর্বশেষ