শিরোনাম
◈ কুমিল্লায় মহাসড়কে ৫ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ◈ সাঁড়াশি অভিযানেও অধরা ডেভিড ইমন, কোথায় আছেন তিনি? ◈ ভারত এবার ইংল্যান্ডের কা‌ছে ওয়ানডে সি‌রিজ হার‌লো  ◈ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে দুশ্চিন্তা বাড়‌লো বাংলা‌দেশ শি‌বি‌রে, লিটনের পর এখন অনিশ্চিত তারকা পেসার না‌হিদ ◈ মাত্র ১০ ডলারের চশমায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ◈ তীব্র তাপদাহে বাংলাদেশের মানুষের দ্বিমুখী সংকট: কমছে আয়, বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ◈ মেসি নন, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল রদ্রির হাতে ◈ বিশ্বকাপ ফুটবল: আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ◈ কাজের আশ্বাস, শেষে ডান্স ক্লাব ও যৌ.ন শোষণের ফাঁদ ◈ পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫

প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৬ রাত
আপডেট : ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, সিদ্ধান্ত আদালত ও ইসির

মনিরুল ইসলাম: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বলছে, এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এখতিয়ারভুক্ত। আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের দলীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বিএনপি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত ও নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, "এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। ফলে ব্যক্তি হিসেবে কে প্রার্থী হতে পারবেন, তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালত ও নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। এ বিষয়ে বিএনপির আলাদা কোনো ব্যাখ্যা নেই।"

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রশ্নে অনিশ্চয়তা

রিজভী বলেন, আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি আদালতের নির্দেশনা ও ইসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হওয়ায় ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। ফলে নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জামায়াতের চিঠি প্রসঙ্গে বিএনপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ঠেকাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে যে চিঠি দিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, "অন্য কোনো রাজনৈতিক দল কী বলল, তা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তা নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে।"

বিএনপির প্রার্থী বাছাই এখনো চূড়ান্ত নয়

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই প্রার্থিতা সংক্রান্ত কৌশল ও কাঠামো দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—স্থায়ী কমিটি—নির্ধারণ করবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসির ভূমিকাই হবে নির্ধারক

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ব্যক্তিগত আইনি অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের প্রশ্নে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী যাতে অংশ নিতে না পারেন, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণবিধির খসড়ার ওপর মতামত দিয়ে পাঠানো চিঠিতে দলটি এ দাবি জানায়।

জামায়াতের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষিদ্ধ কোনো দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

দলটির যুক্তি হলো, সরকার যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং নির্বাচনও একটি রাজনৈতিক কার্যক্রম, তাই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত ওই দলের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা, স্থানীয় সরকারের প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়নেরও প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।

জামায়াতের এই প্রস্তাবকে ঘিরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকলেও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত ও নির্বাচন কমিশনের ওপরই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়