শিরোনাম

প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২২, ১১:৪১ দুপুর
আপডেট : ০১ অক্টোবর, ২০২২, ১১:৪১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৩১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

জাকির হোসেন, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক শূন্যতায় এসব বিদ্যালয়গুলো অনেকটাই  অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে হলে অতি দ্রুত এ সকল বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পূরণ করা দরকার বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।

জানা গেছে, এ শূন্যতার কারণে বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। তাদের অতিরিক্ত পাঠদানের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক শূন্যতার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নের ১'শ ৮৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে ৩১টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক নেই। এ সকল বিদ্যালয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িক্ত পালন করতেছেন।

প্রধান শিক্ষক শূন্যতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ, সভা-সেমিনারে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়।

এতে শিশুদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা চালু রাখতে শিক্ষক সংকট নিরসনের বিকল্প নেই বলে মনে করছে সচেতন অভিভাবকবৃন্দ।

পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বনুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য। বর্তমানে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িক্ত পালন করছি।

পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িক্ত দেখভাল করতে হয় তবে একটু কষ্ট হলেও পাঠদানে কোন সমস্যা হয় না।

পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন,ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ কষ্ট করেন বেশি বেতন পায় সহকারী শিক্ষকের।

একজন প্রধান শিক্ষক একটি স্কুলের অভিভাবক আর এই অভিভাবক না থাকলে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে ভালভাবে পরিচালনা করা পরিপূর্ণ সম্ভব নয়।

উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বলেন, ৩১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ বিদ্যালয় আছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের পদগুলো গেজেটে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দেয়নি, যার ফলে ঐসকল বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকরা পদ ফিরে পাওয়ার জন্য মামলা করেছে, মামলা চলমান থাকায় প্রধান শিক্ষক পদটি ফাঁকা আছে। এছাড়া উপজেলায় কিছু শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় প্রধান শিক্ষক পদটি ফাঁকা হয়ে গেছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাবিবুল ইসলাম  জানান, উপজেলায় ৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িক্ত পালন করায় দাপ্তরিক কাজে কিছু সমস্যা থেকেই যায়। আমরা চাহিদা পাঠাচ্ছি।

আশা করছি অল্প দিনের মধ্যেও বিষয়টি সমাধান হবে। সম্পাদনা: আল আমিন 

  • সর্বশেষ