শিরোনাম
◈ পুলিশে বড় রদবদল, কমিশনার-ডিআইজি-এসপিসহ বদলি ২৩ কর্মকর্তা ◈ ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক জোকার: চিফ প্রসিকিউটর (ভিডিও) ◈ বিদ্যুৎ নিয়ে সুখবর দিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ◈ বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ◈ বাংলাদেশের শমিত সোম এবার খেল‌বেন পেলে-বেকেনবাওয়ারের সাবেক ক্লাব নিউ ইয়‌র্কের কসম‌সে  ◈ আওয়ামী লীগ কেন বারবার পাকিস্তান ও 'আইএসআই'য়ের কথা বলছে?  ◈ হাম-উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৫ জনের ◈ বরিশালে আদালতের ফটকের কাছে ‘ককটেল’ বিস্ফোরণ ◈ ১২ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ, ইইউর সঙ্গেও আলোচনা শিগগির: বাণিজ্যমন্ত্রী ◈ জানা গেল কবে থেকে শুরু কলেজের ভর্তি আবেদন

প্রকাশিত : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:১৯ বিকাল
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এসএসসি ফল বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি

মনিরুল ইসলাম : ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এবারের ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বৈষম্য, অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত দুর্বলতার প্রতিফলন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কম। এই পরিস্থিতিতে আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের শিক্ষা খাতে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরও বলেন, ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১২টিতে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬৯টিতে। এ পরিসংখ্যান দেশের গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলিত অবস্থাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

সাইফুল হক অভিযোগ করেন, দেশে বহুমাত্রিক ও বিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী কার্যত শিক্ষার মূলধারা থেকে ছিটকে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত দেড় থেকে দুই দশকে শিক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে নানা পরীক্ষামূলক নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞানার্জনের পরিবর্তে জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা ও পাসের হার বৃদ্ধির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করা এবং বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকা কেবল শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যা নয়; এটি সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য মানসিক ও আর্থিক সংকট তৈরি করছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী পরিবারের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর।

এই প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, কমিশনকে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন কোনো বিলম্ব না করে বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়