এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খারাপ ফলের সরাসরি প্রভাব পড়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তিতে। দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ২৫ লাখ আসন থাকলেও এবার মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতে পেরেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ শিক্ষার্থী। ফলে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থেকে যাবে। অর্থাৎ, মোট আসনের অর্ধেকেরও বেশি শূন্য থাকবে।
তবে আসন সংকট না থাকলেও রাজধানীসহ দেশের নামিদামি কলেজগুলোতে বেশ প্রতিযোগিতা হবে। কারণ, অধিকাংশ শিক্ষার্থী সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আগ্রহী হওয়ায় ভালো ফল করেও অনেকের পছন্দের কলেজে সুযোগ না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
গত সোমবার সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতারুজ্জামান।
আগের নিয়মেই ভর্তি
ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, একাদশ শ্রেণির ভর্তি পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আগের মতোই এসএসসির ফল, শিক্ষার্থীর জিপিএ, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা–কোনোটিই থাকছে না।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনকালে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে নির্বাচন করা যাবে। পরে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
এ পদ্ধতিতে দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে আলাদা প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেওয়া হয়।
পাস কম, তাই বাড়ছে খালি আসন
অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, গত বছর একাদশ শ্রেণিতে মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ পূরণ হয়েছিল। অর্থাৎ, ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন খালি ছিল। এবার এসএসসিতে পাসের হার আরও কমে যাওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে বাড়বে।
এবার ১১ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
নামকরা কলেজেই সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা
যদিও সারাদেশে আসনের চেয়ে শিক্ষার্থী অনেক কম, তবু রাজধানী, বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ের স্বনামধন্য কলেজগুলোতে আগের মতোই তীব্র প্রতিযোগিতা হবে।
বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, অনেক শিক্ষার্থী আবেদনকালে শুধু এক বা দুটি জনপ্রিয় কলেজকেই পছন্দক্রমে রাখে। ফলে জিপিএ ৫ পেয়েও অনেকে কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় না। কারণ, একই কলেজে সমান জিপিএধারী অসংখ্য আবেদনকারী থাকায় বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিবেচনায় চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়।
এ কারণে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বাস্তবসম্মতভাবে পছন্দক্রমে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি শেষ
ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, এরই মধ্যে ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে। এর পরই নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে। খুব শিগগিরই ক্লাস শুরুর তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
ভর্তি ফি আগের মতোই
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না। আগের নীতিমালার মতোই এলাকাভেদে এমপিও ও নন-এমপিও কলেজের ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া নিবন্ধন, ক্রীড়া, রোভার-রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিএনসিসি এবং শিক্ষক কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত ফিও বহাল থাকবে।