অবশেষে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মহেশখালী থেকে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহণের প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মহেশখালী থেকে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে তেল পরিবহণ শুরু হতে পারে।
এই প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার পিটি পারটার্মিনা কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার এই কোম্পানি আগামী পাঁচ বছর প্রকল্পটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
রাজধানীতে বিপিসির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বিপিসির পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক এবং পারটার্মিনার প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর সই করেন। এ সময় বিপিসির চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে স্থাপন করে জ্বালানি তেল পরিবহণের জন্য সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পে ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। এ জন্য চীনের চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিপিপিইসি) নামে একটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সিপিপিইসির সঙ্গে চুক্তিতে প্রকল্পটি কে পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না। তাই ২০২৪ সালের মার্চে প্রকল্পটি বিপিসির কাছে হস্তান্তর করা হলেও এতদিন কাজে আসেনি ওই পাইপলাইন বা প্রকল্প।
এখন আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি পারটার্মিনা প্রকল্পটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। ওই দরপত্রে ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার দর দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল সিপিপিইসি।
এই প্রকল্প চালু হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মহেশখালীর এসপিএম প্রকল্প থেকে একটি পাইপ দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন এবং অন্য একটি পাইপলাইন দিয়ে ৭০ হাজার টন ডিজেল পতেঙ্গায় আসবে। এতে বড় জাহাজ থেকে তেল খালাস করতে পারবে বিপিসি।
জানা গেছে, চলতি মাস থেকেই ইন্দোনেশিয়ার এই কোম্পানি কাজ শুরু করবে। দেশে প্রতি বছর ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়। যার বেশির ভাগই আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়।