রুটি, বিস্কুটের মতো বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে ‘সম্মত’ হয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তারা বনরুটি ও বিস্কুটের দাম আপাতত না বাড়াতে ‘রাজি’ হয়েছেন বলে রাতে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সম্প্রতি বেকারি পণ্যের মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীদের ঘোষণাসহ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এছাড়া বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, কর ও শুল্কসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপকরণের দাম বাড়ায় সম্প্রতি বেকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ময়দা, চিনি, সয়াবিন তেল, ডালডার ও ইস্টসহ বেকারি পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ার কথা বলেছেন তারা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট। একদিকে কাঁচামালের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানিরও সংকট তৈরি হয়েছে।
পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেক বেকারিকে। তাতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
এ পরিস্থিতিতে পণ্যের দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দেয় বেকারি পণ্যের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।
শনিবার থেকে নতুন দামে বনরুটি ও বিস্কুট বিক্রি শুরুর কথা বলেছিলেন সংগঠনটির নেতা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী আলোচনায় বসলেন।
সভায় সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে যৌক্তিক মূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম।