শিরোনাম
◈ বিগত সরকারের প্রকল্পে দুর্নীতি, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী ◈ তিন দেশ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানি করছে সরকার ◈ হংকংয়ের সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, খুলবে সম্ভাবনার নতুন দ্বার ◈ ইন্দোনেশিয়ায় পণ্য রপ্তানির মধ্য দিয়ে চালু হলো বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ ◈ বিবাহ-তালাক নিবন্ধনের ডিজিটাইজেশন হচ্ছে, কমবে বাল্যবিয়ে ও বহুবিবাহ: আইনমন্ত্রী ◈ টিকাদানে ঘাটতিতে বাংলাদেশে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব: রয়টার্সের প্রতিবেদন ◈ পোশাক রপ্তানিতে আশার আলো, যুক্তরাষ্ট্রে বড় প্রবৃদ্ধি ◈ প্রাথমিকের কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে লিসেনিং-স্পিকিং ◈ বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নেবে ওমান ◈ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে রয়েছেন যারা

প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪৩ বিকাল
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পোশাক রপ্তানিতে আশার আলো, যুক্তরাষ্ট্রে বড় প্রবৃদ্ধি

দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে তৈরি পোশাকের এ প্রধান বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

তুলনামূলক কম রপ্তানি হলেও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে বিবেচিত অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও আশা জাগাচ্ছে। আর প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোনো রকমে বাজার ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানির পরিমাণ ৭৪৯ কোটি ৫৫ লাখ (৭,৪৯৫.৬১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৭১৩ কোটি ৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ।
বৃদ্ধি পাওয়া এ রপ্তানির মধ্যে প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১৬১ কোটি ২৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে মার্কিন বাজারের শেয়ার ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

অপ্রচলিত বাজারেও পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১২২ কোটি ৩১ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, একক বৃহত্তম আঞ্চলিক বাজার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল কিছুটা ধীরগতির। ইইউতে রপ্তানি মাত্র ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩৪৯ কোটি ৩৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে এ বাজারের শেয়ার ৪৭ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং কানাডায় ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোর মধ্যে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৯৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো তথ্যসূত্রে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এ ছাড়া ব্রাজিলে ৩৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ দশমিক ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে রাশিয়ায় ৩৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, চীনে ১৬ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং ভারতে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ পোশাক রপ্তানি কমেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে সবচেয়ে বড় ক্রেতা জার্মানিতে রপ্তানি ছিল প্রায় স্থবির। দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যার পরিমাণ ৮০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। তবে নেদারল্যান্ডসে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং স্পেনে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ শক্ত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিপরীতে ফ্রান্সে ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং পর্তুগালে ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।

সামগ্রিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে মার্কিন বাজার এবং অপ্রচলিত বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করেই পোশাক খাতের এ অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে, ইইউ প্রধান বাজার হিসেবে বজায় থাকলেও সেখানে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর থাকায় মোট রপ্তানিতে তাদের আনুপাতিক শেয়ার কিছুটা কমেছে।

তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সিইও ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘রপ্তানির সামগ্রিক তথ্যে দেশভিত্তিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো না থাকায় সেখানে আমাদের অবস্থানও খুব একটা ভালো নয়। তবে আমেরিকাতে সামগ্রিক আমদানি কম থাকা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসেবে বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো করছে।’

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে এবং শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলে মার্কিন বাজারে সামনে আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দুই মূল বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ওপর শতভাগ নির্ভর না থেকে নতুন বাজারগুলোতে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ভারত, চীন ও রাশিয়ার মতো বাজারে বাণিজ্য বাড়াতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অপ্রচলিত বাজারে অবস্থান যত শক্ত হবে, মূল বাজারগুলোর ওপর আমাদের নির্ভরতা তত কমবে।’

মহিউদ্দিন রুবেল আরও যোগ করেন, ‘কানাডা ও যুক্তরাজ্যে আমাদের প্রবৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ইউরোপের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি আমরা যদি নিজস্ব সক্ষমতা ধরে রাখতে পারি, তবে সেখানেও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। আগামীতে ডিউ ডিলিজেন্সসহ যে নতুন নতুন নীতিমালা বা চ্যালেঞ্জ আসছে, সেগুলো সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারলে ইউরোপীয় ক্রেতারা আমাদের মতো পুরোনো ও বিশ্বস্ত অংশীদারকে হারাতে চাইবে না।’ উৎস: বাংলানিউজ২৪

 

  • সর্বশেষ