শিরোনাম
◈ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন ‍সিদ্ধান্ত ◈ দুবাই থেকে বিশেষ কৌশলে আনা ২ কেজির বেশি স্বর্ণ জব্দ, চট্টগ্রামে আটক একজন ◈ চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও পাট বাণিজ্যে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের বড় সমঝোতা, শিগগিরই সই হবে এমওইউ ◈ বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেলো চট্টগ্রাম, সারা দেশে কত ◈ বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ: প্রধানমন্ত্রী ◈ আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট–সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা: সতর্কীকরণ কেন্দ্র ◈ গাইবান্ধার মন্দির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র আটক, হুন্ডি ও ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি মানিলন্ডারিং অভিযোগ ◈ বিশ্বকাপে প্রত‌্যাশা পূর‌ণে ব‌্যর্থ হওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন ১৫ কোচ ◈ এবার চিকিৎসাসেবা বাড়াতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ রুমিন ফারহানা আপাও যখন দেখি যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেন নাই, সেটাও মনে প্রশ্ন জাগে: সামান্তা

প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০২:৩৬ দুপুর
আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৩:২২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও পাট বাণিজ্যে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের বড় সমঝোতা, শিগগিরই সই হবে এমওইউ

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন: দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল এবং পাটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে সরকারি পর্যায়ে একটি বড় ধরনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরকালে এই বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর সাথে আলাপকালে টিসিপি চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, মসুর ডাল, ছোলা, সার, ভোজ্যতেল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। অন্যদিকে, পাকিস্তানের শিল্প খাতে বাংলাদেশের উন্নত মানের পাট এবং পাটজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আইনি কাঠামো মেনে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করার প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান। বৈঠকে উভয় পক্ষই পাকিস্তান-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিনিময় বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

টিসিপি চেয়ারম্যান বলেন, "আমাদের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করা, খাদ্য সরবরাহে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের অংশীদারিত্বকে সম্প্রসারিত করা।"বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা গেলে দুই দেশের জন্যই বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও প্রসারিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। পাকিস্তানের উদ্বৃত্ত কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিশেষ করে চাল এবং ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের আমদানির উৎসকে আরও বহুমুখী করবে। বিপরীতভাবে, বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি সই হলে দুই দেশের মধ্যকার আমলাতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত জটিলতা অনেকটাই দূর হবে। সরকারিভাবে সরাসরি বাণিজ্য চ্যানেল চালু হওয়ার ফলে লেনদেন আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে, যা বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খাদ্য ও কৃষি খাতের এই সমঝোতা কেবল পণ্য আদানপ্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এখন বাণিজ্যকে আরও সাশ্রয়ী ও দক্ষ করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করবে। তা হলো- পণ্যের ওপর শুল্কের হার কমিয়ে এনে আমদানি-রপ্তানি খরচ হ্রাস করা, দুই দেশের গুণগত মানদণ্ডের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যাতে পণ্য খালাসে সময় কম লাগে এবং সরাসরি নৌ বা বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা।

এই উদ্যোগটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। উভয় দেশই এখন তাদের প্রথাগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে কৃষি এবং হালকা শিল্পে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে চায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুই দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভলিউম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়