শিরোনাম
◈ গো-হত্যা নিষেধাজ্ঞায় পশ্চিমবঙ্গে চরম উদ্বেগে হিন্দু খামারিরা ◈ ভার‌তে খেলোয়াড়‌দের হা‌তে মার খে‌য়ে মা‌ঠেই চিৎপটাং রেফা‌রি ◈ নারী বিশ্বকা‌পের প্রস্তুতিতে অ‌ধিনায়ক জ্যােতি সন্তুষ্ট, লক্ষ্য আ‌গের চে‌য়ে ভালো করার ◈ বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ, ২৬ সমুদ্র ব্লক উন্মুক্ত, এবার কি মিলবে গ্যাসের বড় সুখবর? ◈ বৈধ চ্যানেলে বাড়ছে প্রবাসী আয়, খুশির খবর অর্থনীতিতে ◈ হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ: ২৪ ঘণ্টায় ১৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪৩৪ ◈ রামিসা হত্যা মামলার বিচার ৭ দিনের মধ্যে,, ছুটি বাতিল হতে পারে বিশেষ আদালতের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যা, স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ ◈ ঈদযাত্রায় ডিএমপির যে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন বাসমালিক ও যাত্রীদের জন্য ◈ জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের মাফিয়ারা 

প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৬, ০৮:১১ রাত
আপডেট : ২৪ মে, ২০২৬, ১১:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ, ২৬ সমুদ্র ব্লক উন্মুক্ত, এবার কি মিলবে গ্যাসের বড় সুখবর?

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বঙ্গোপসাগরের গভীর-অগভীর ২৬টি ব্লক বরাদ্দের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। রোববারের এ দরপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুন থেকে বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলো পেট্রোবাংলা থেকে সাগর জরিপের ডেটা এবং আবেদন ফরম কিনতে পারবে। এ ফরম জমা দিতে হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। তবে ২০২৪ সালে পেট্রোবাংলা থেকে একই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তখন ৯ মাসে ৬টি বিদেশি কোম্পানি ফরম কিনেছিল। সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন

কিন্তু কেউ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ব্লক নিতে আগ্রহ দেখায়নি। সে হিসাবে এবারের দরপত্রও বিএনপি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সন মবিল শুধু আগ্রহ দেখিয়েছে। 

তারা এ ইস্যুতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তবে দরপত্র ১ জুন উন্মুক্ত হলে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডের কোম্পানিও আগ্রহী হতে পারে। তখন ভূরাজনীতির ইস্যুটি আবার আলোচনায় আসবে।

কেন চ্যালেঞ্জিং: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৭টি কোম্পানি দরপত্র কিনেও জমা দেয়নি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সন মবিল, শেভরন, সিনক, জাপানের একটি কোম্পানি এবং থাইল্যান্ডের পিটিটিও রয়েছে। 

কেন তারা শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়নি, তা অনুসন্ধান করতে পেট্রোবাংলার এক পরিচালকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির কাছে ওই ৭ আইওসি (আন্তর্জার্তিক তেল কোম্পানি) জানিয়েছে, মূলত চারটি কারণে তারা সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী নয়। 

এর একটি হচ্ছে গ্যাসের দাম এবং উৎপাদিত গ্যাসের ভাগাভাগিতে আইওসির অংশ কম। এবারের পিএসসিতে গ্যাসের দাম এবং তাদের লভ্যাংশ অনেক বাড়ানো হয়েছে বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত আইওসির শ্রমিক-কর্মকর্তাদের লভ্যাংশের ৫ শতাংশ বোনাস বছরে দিতে হয়। এটি কমিয়ে এখন দেড় শতাংশ করা হয়েছে। 

যদিও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেছেন, এর মাধ্যমে তাদের ঠকানো হচ্ছে। তৃতীয়ত ব্লকগুলোর আয়তন ছোট। এতে বড় বিনিয়োগ সম্ভব নয়। 

বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। চতুর্থত, গভীর বা অগভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইন বসানোর পরিকল্পনা স্পষ্ট নয় এবং এজন্য হুইলিং চার্জ নির্ধারণ করা হয়নি। এবার হুইলিং চার্জ নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

এসব উদ্যোগের ফলে এবার হয়তো আইওসিগুলো সমুদ্রে গ্যাসের অনুসন্ধানে আগ্রহী হবে বলে সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন। 

জানা যায়, পেট্রোবাংলা এবার ৫০টির বেশি কোম্পানিকে সমুদ্রে ব্লক বরাদ্দের দরপত্রে অংশ নিতে ইমেইল করছে। ঈদের পরই তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়া হবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েব শনিবার বলেছেন, গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের মডেল পিএসসিতে (উৎপাদন বণ্টনচুক্তি) বেশকিছু সংশোধন আনা হয়েছে। আশা করছি, এবার বেশ সাড়া পাওয়া যাবে।

দেশে এখন দৈনিক ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আবার আমদানি (এলএনজি) করে সরবরাহ দেওয়া হয় দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট। অথচ চাহিদা আছে ৪০০ কোটি ঘনফুটের বেশি।

এবার দ্বিতীয়বার গভীর-অগভীর সমুদ্রে ২৬টি ব্লক বরাদ্দের দরপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গভীর ১৫টি এবং অগভীর ১১টি ব্লক। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রে ডিএস ব্লক-১১-এর কাছেই মিয়ানমার কমপক্ষে ১৫ বছর আগে ‘সোয়ে’ ফিল্ডে পাওয়া গ্যাস ব্যবহার করছে।

আইনি লড়াইয়ের পর ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা মীমাংসা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ গভীর সমুদ্র থেকে গ্যাস আবিষ্কার করলেও বাংলাদেশ এখনো গ্যাস পায়নি। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এখন পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের অদূরে অগভীর সমুদ্রে সাংগু নামে একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের মোট সমুদ্রসীমা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল।

এই ব্লক বরাদ্দের চুক্তির জন্য সম্প্রতি মডেল পিএসসি অর্থনীতি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন করা হয়েছে। এ পিএসসিতে ২০২৩ সালের পিএসসি থেকে বেশকিছু সংশোধন আনা হয়েছে। এখানে বিদেশি কোম্পানিকে বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, আগ্রহী প্রতিষ্ঠান এককভাবে বা যৌথ উদ্যোগে এক বা একাধিক ব্লকের জন্য আবেদন করতে পারবে। ঠিকাদার কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা সম্পূর্ণভাবে দেশে নিতে পারবে। এছাড়া কোনো ধরনের সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটি দিতে হবে না। 

গ্যাসের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তবে এক্ষেত্রে গত পাঁচ বছরের সর্বনিু ও সর্বোচ্চ গড় ব্রেন্ট মূল্যের ভিত্তিতে একটি ফ্লোর ও সিলিং মূল্য নির্ধারণ করা হবে। সে অনুযায়ী গভীর ও অগভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিট সাড়ে ৭ থেকে ১১ ডলার হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম শনিবার বলেছেন, গ্যাসের এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় খবর। তবে চ্যালেঞ্জিংও বটে। অনেকদিন পর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান হবে। বড় গ্যাসের ক্ষেত্র পেলে সেটি হবে দেশের জন্য সুখবর।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়