শিরোনাম
◈ এআই ক্যামেরার ভয়ে ফাঁকা রাস্তাতেও ট্রাফিক আইন মানছেন চালকেরা ◈ না‌হিদ রানা এপ্রিল মা‌সের আইসিসির সেরা ক্রিকেটার নির্বা‌চিত ◈ অভিজ্ঞদের নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটব‌লে নিউজিল্যান্ড দল  ◈ বাংলাদেশের জন্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের তাৎপর্য ◈ দেশের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য দিল সরকার ◈ ঈদুল আজহার ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি ◈ ২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা ◈ দেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, বেড়েছে ৬ লাখের বেশি ভোটার ◈ চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, স্যুপ, বিস্কুটে উচ্চমাত্রার লবণ: বছরে মারা যাচ্ছে ২৪,০০০ মানুষ ◈ পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ, নতুন নির্দেশনা জারি করলো বিজেপি

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২৬, ০৮:৩২ রাত
আপডেট : ১৪ মে, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে কর বাড়াতে যাচ্ছে এনবিআর

রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও কর ফাঁকি রোধের নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে চাল, ডাল, ফলসহ ২৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি ও খাদ্যপণ্যের স্থানীয় সরবরাহের ওপর উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এ বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা টিবিএসকে জানান, এই প্রস্তাবে বহুল ব্যবহৃত বেশ কিছু পণ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে—চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্য তেল, চিনি, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, খেজুর, তেজপাতা ও সব ধরনের ফল।

উৎসে কর বৃদ্ধির এই প্রস্তাবটি আসন্ন একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী জাতীয় বাজেটে তা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

নীতিগত প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তন

গত কয়েক বছরে এসব পণ্যের ওপর উৎসে করের হার বেশ কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৩-২৫ অর্থবছরে সরকার এসব পণ্যের স্থানীয় ঋণপত্র (এলসি) ও এলসি-বিহীন সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর বাড়িয়ে ২ শতাংশ করে। তবে পরের অর্থবছরে তা কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়।

সর্বশেষ বাজেটে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ও মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকার এই কর আরও কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল।

মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা

ব্যবসায়ী নেতা ও সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা বলছেন, করের হার বাড়ানো হলে তার বোঝা শেষপর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়বে, যা খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

গত তিন বছর ধরে দেশে  খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী, যার অবস্থান ১০ শতাংশের আশপাশে। 

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, কর বেড়ে গেলে শেষপর্যন্ত পণ্যের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে। 'কর হার বাড়ানো হলে, তা পণ্যের ‍মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হবে; ফলে দাম বাড়তে পারে,' বলেন তিনি।

উৎসে কর বছর শেষে হিসাব করে কোম্পাানির আয়-ব্যয়ের হিসাবে পরে সমন্বয়ের সুযেগ রয়েছে, তাহলে কেন পণ্যের দাম বাড়বে?—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বাস্তবে এনবিআরের কাছে একবার করের টাকা গেলে ওই টাকা আর ফেরত পাওয়া যায় না। এজন্য করকে খরচ হিসাব করে তা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।'

কমপ্লায়েন্স ও কর আদায় পদ্ধতি

বর্তমান ব্যবস্থায়, স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো বিল পরিশোধের সময় উৎসে কর কেটে রেখে রেখে বাকি টাকা পরিশোধ করে। কেটে রাখা ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয় ওই কোম্পানি। আর এলসির মাধ্যমে লেনদেন হলে ব্যাংক ওই অর্থ কর্তন করে এনবিআরকে জমা দেয়।

খাদ্য ও পানীয়সহ বিভিন্ন খাতের যেসব বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ নিত্যপণ্য কেনে, তারা এই কর কর্তনের আওতায় পড়ে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান কর্মীদের খাবারের জন্য প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ টন চাল কেনে। তিনি বলেন, 'যেহেতু আমাদের প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট, সেজন্য যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাপ্লাই নেওয়া হয়, তাদেরকে বিল পরিশোধের সময় কর কর্তন করা হয়। বাজেটে কর হারে পরিবর্তন এলে ওই অনুযায়ী কর্তন করা হবে।'

রাজস্বের প্রত্যাশা ও নীতিগত বিতর্ক

এনবিআরের একজন কর্মকর্তার প্রাক্কলন অনুযায়ী, সঠিকভাবে এই খাত থেকে কর আদায় করা গেলে নতুন কর হার অনুযায়ী বছরে ৫০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হতে পারে।

তবে এনবিআরের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই কর বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি বলেন, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে এর আগে এই কর কমানো হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি নীতিগত ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং এ পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সমালোচকেরা এনবিআরের বর্তমান নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনেছেন। বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান ২০২৩ সালে যখন ইনস্টিটিউট অভ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অভ বাংলাদেশ-এর (আইসিএমএবি) সভাপতি ছিলেন, তখন এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে উৎসে করের আওতার বাইরে রাখার সুপারিশ করেছিলেন।

ওই সময় তিনি বলেছিলেন, 'প্রক্রিয়াগতগত জটিলতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় সব ধরনের কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে উৎসে কর কর্তনের আওতার বাইরে রাখা উচিত।'

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়