শিরোনাম
◈ এআই ক্যামেরার ভয়ে ফাঁকা রাস্তাতেও ট্রাফিক আইন মানছেন চালকেরা ◈ না‌হিদ রানা এপ্রিল মা‌সের আইসিসির সেরা ক্রিকেটার নির্বা‌চিত ◈ অভিজ্ঞদের নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটব‌লে নিউজিল্যান্ড দল  ◈ বাংলাদেশের জন্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের তাৎপর্য ◈ দেশের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য দিল সরকার ◈ ঈদুল আজহার ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি ◈ ২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা ◈ দেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, বেড়েছে ৬ লাখের বেশি ভোটার ◈ চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, স্যুপ, বিস্কুটে উচ্চমাত্রার লবণ: বছরে মারা যাচ্ছে ২৪,০০০ মানুষ ◈ পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ, নতুন নির্দেশনা জারি করলো বিজেপি

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২৬, ০৯:৩১ রাত
আপডেট : ১৪ মে, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এআই কর্মশালা: ডিপফেক, ভুয়া ভিডিও, ভয়েস ক্লোনিং ও বটের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি বাড়ছে

মনিরুল ইসলাম : জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (NIMC) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)-এর যৌথ আয়োজনে “চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন পরিবেশনা ও বিপণনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এর মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য বিস্তার রোধ কৌশল” শীর্ষক এক কর্মশালা আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) পরিচালিত চারটি কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল শিল্প, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি অপতথ্য, বিভ্রান্তি ও নৈতিক ঝুঁকির বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার দায়িত্বশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন এআই ব্যবহারের পক্ষে এবং চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণে এআই যেন ইতিবাচক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মশালায় চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন ও গণমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং অপতথ্য প্রতিরোধে এর কার্যকর ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বিসিটিআই-এর উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মোকছেদ হোসেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাবিব নাজমুস ছাকিব। 

তিনি বলেন, এআই ও কম্পিউটার গ্রাফিক্স (CG) প্রযুক্তি চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। ডি-এজিং, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন, ভয়েস ক্লোনিং, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস এবং এআই-নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করছে। একইসঙ্গে লেখকত্ব, নৈতিকতা ও সেন্সরশিপের মতো বিষয়েও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজ্ঞাপন শিল্পে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা, ডায়নামিক কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন অপ্টিমাইজেশনে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার ও কৃত্রিম চরিত্রের ব্যবহার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও বাস্তবতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় অপতথ্য ও গুজব ছড়াতে এআই-এর অপব্যবহারের বিষয়টি। বক্তারা বলেন, ডিপফেক, ভুয়া ভিডিও, ভয়েস ক্লোনিং এবং এআই-চালিত বটের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে ফ্যাক্ট-চেকিং টুল, অ্যালগরিদমিক শনাক্তকরণ ও ওয়ার্নিং লেবেলের মাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধে এআই-এর ইতিবাচক ব্যবহারের দিকও তুলে ধরা হয়।

যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা বলেন, বিশ্বজুড়ে এআই-সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি বর্তমানে অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয়। অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান বলেন, প্রতিটি প্রযুক্তিরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। এআই-এর সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে গণমাধ্যম ও সৃজনশীল খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র গবেষক ও প্রবীণ পরিচালক রফিকুজ্জামান বলেন, এআই বিজ্ঞাপন ও শর্ট ফিল্ম নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মূলধারার চলচ্চিত্রে এর ব্যবহার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে, কারণ সিনেমার মূল শক্তি হলো কনটেন্ট ও দর্শকের অনুভূতি।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিস্তার জাহান কবীর, বিসিটিআই-এর মেন্টর রফিকুল আনোয়ার রাসেল, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষক আল আমিন রাকিব তনয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুরুল হক সালেহ এআই-এর নৈতিক ব্যবহার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দেন।

কর্মশালায় বিসিটিআই-এর ছয়টি কোর্সের শিক্ষার্থী, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (NIMC) ও বিসিটিআই-এর কর্মকর্তাবৃন্দ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মত প্রকাশ করেন যে, এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক, দায়িত্বশীল ও মানবিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এটি আশীর্বাদে পরিণত হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়