জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এরশাদ মিয়ার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। ভিক্ষুকের দাফনের টাকা আত্মসাৎ থেকে শুরু করে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাতে এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী ছামিনা বেগম বাদী হয়ে ইউপি সদস্য এরশাদ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের প্রবাসীর স্ত্রী ছামিনা বেগম ইউপি সদস্য এরশাদ মিয়ার ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, প্রবাসীর স্ত্রী ছামিনা বেগমের স্বামী বর্তমানে লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি অবস্থায় আছেন। ছামিনার দাবি, স্থানীয় পাচারকারী মিজানের ওই চক্রের সাথে মেম্বার এরশাদ সরাসরি জড়িত। স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি নিয়ে মেম্বারের কাছে গেলে ইউপি সদস্য ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। অসহায় ছামিনা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং মেম্বারের পায়ে ধরে মিনতি করলে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মেম্বার প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্লজ্জভাবে রাত্রিযাপনের কু-প্রস্তাব দেন।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী বৃদ্ধা রহিমা বেগম পেশায় একজন ভিক্ষুক। নিজের দাফন-কাফনের খরচ মেটানোর জন্য তিল তিল করে ২ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের আশায় সেই জমানো টাকা তুলে দিয়েছিলেন ইউপি সদস্য এরশাদের হাতে। রহিমা বেগমের অভিযোগ, কার্ড করে দেওয়ার নাম করে মেম্বার এরশাদ তার কাছ থেকে ৭ বার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়েছেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও কার্ড মেলেনি। উল্টো আরও টাকা দাবি করেছেন ওই জনপ্রতিনিধি। টাকা দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অসহায় ওই বৃদ্ধা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহম্মেদ জানান, অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে একজন জনপ্রতিনিধির এমন বেপরোয়া আচরণ ও নৈতিক অবক্ষয়ে স্তম্ভিত এলাকাবাসী। স্থানীয়রা অবিলম্বে মেম্বার এরশাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরতসহ বয়স্ক ভাতার কার্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ঘটনার বিচার চেয়ে সরব হয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। শোষকের বিনাশ ও আর্তমানবতার সেবায় প্রশাসন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবার দুটির।