শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষ নেবে না : মার্কিন রাষ্ট্রদূত ◈ জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা ◈ শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড ◈ খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে ভারতের রাজ্যসভা ◈ স্বর্ণের ভরি কি খুব শিগগিরই ৩ লাখ টাকা ছাড়াবে? ◈ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বিরোধে বাংলাদেশকে কেন সমর্থন দিচ্ছে পাকিস্তান? ◈ ২০২৯ সা‌লের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করতে আগ্রহী ব্রাজিল ◈ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ: অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে নির্বাচনি প্রচার ◈ জামায়াত হিন্দুদের জামাই আদরে রাখবে, একটা হিন্দুরও ভারতে যাওয়া লাগবে না : জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী (ভিডিও) ◈ মার্চে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ 

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৩৫ সকাল
আপডেট : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাটের মণ ৫৩০০ টাকা: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব পাটকল বন্ধের হুঁশিয়ারি মালিকদের

কাঁচা পাটের তীব্র সংকটে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)। এ পরিস্থিতিতে তাদের অধিভুক্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

সংকটের কারণে কাঁচা পাটের দামও অনেকটা বেড়ে গেছে। বিজেএমএ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার প্রতি মণ পাট ৫ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব পাটকল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে তারা’—এ কথা বলে বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে গতকাল সোমবার চিঠি দিয়েছে দুই সংগঠন। এই সংগঠন দুটি হলো ২০০ পাটকলমালিকদের সংগঠন বিজেএমএ ও ৬০টি পাটকলের সংগঠন বিজেএসএ।

শেখ বশিরউদ্দীনকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, বাজারে কাঁচা পাটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে পাটকলগুলো তা কিনতে পারছিল না, ক্রেতাদের চাহিদামাফিক উৎপাদনও করতে পারছিল না। বিষয়টি গত বছরের ২৮ আগস্ট বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টাকে লিখিতভাবে জানিয়েছিল দুই সংগঠন। উপদেষ্টা তখন তাদের ডেকে বৈঠক করেন। কাঁচা পাট রপ্তানিতে এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর শর্ত আরোপসহ পরিপত্র জারি করা হয়। ফলে কাঁচা পাট রপ্তানি কমলেও বাজারে এর সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। চিঠিতে এসব কথা উল্লেখ করা হয়।

যোগাযোগ করলে বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাট খাতের বিদ্যমান সমস্যা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিজেএমএ ও বিজেএসএ হঠাৎ চিঠি দিয়েছে। যেহেতু চিঠি দিয়েছে, সেহেতু আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। তবে এটা ঠিক বর্তমানে পাটের যে দাম, তা পাটচাষিরা পাচ্ছেন না; এ দাম পাচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।’

মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে

সংগঠন দুটি জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাটের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ সুযোগে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী কাঁচা পাট মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তাদের ভাষ্য, পাটকল বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের বেকারত্ব বাড়বে, আয় কমবে বৈদেশিক মুদ্রার। স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বস্ত্র ও পাটসচিব বিলকিস জাহান রিমির সঙ্গে ১৩ জানুয়ারি বৈঠক করে বিজেএমএ ও বিজেএসএ। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাট অধিদপ্তরে মজুতদারদের তালিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২১ জানুয়ারি পাট অধিদপ্তরে বিজেএমএ, বিজেএসএ ও কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) উপস্থিতিতে যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বস্ত্র ও পাটসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পাটকলগুলোর কাঁচা পাটের চাহিদা নির্ধারণ এবং নগদ মূল্যে মজুত পাটকলগুলোতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, ভারতে রপ্তানির জন্য যে পরিমাণ কাঁচা পাট মজুত আছে, পাটকলগুলোকে তা দেওয়া হলে তারা উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।

শেখ বশিরউদ্দীনকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, পাট অধিদপ্তর থেকে মজুতদারদের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা নামমাত্র। মজুতদারদের হাত এত শক্তিশালী যে তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চলছেই এবং মজুত পাট কিছুতেই বাজারে ছাড়ছে না।

তবে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বসির প্রথম আলোকে বলেন, ‘নামমাত্র পদক্ষেপের অভিযোগ ঠিক নয়। স্বল্প জনবল নিয়েও আমরা তালিকা ধরে অভিযান বাড়িয়েছি। লাইসেন্সধারী রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে অবৈধ মজুতের বিষয়টি খাটে না। রপ্তানি সংকুচিত হওয়ায় তাঁরা পাট ছেড়ে দেবেন বলে আশা করছি।’

প্রতি মণ পাট ৫ হাজার টাকার বেশি

কাঁচা পাট রপ্তানিতে শর্ত দেওয়ার আগে গত আগস্টে শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে করা বিজেএমএ ও বিজেএসএর যৌথ আবেদনে জানানো হয়েছিল, পাটের ভরা মৌসুমে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা। অথচ আগের বছরগুলোতে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২০০ টাকা। গতকাল সোমবার একই মানের পাট প্রতি মণ ৫ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে বিজেএমএ সূত্রে জানা গেছে।

বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টার মালিকানাধীন জনতা জুট মিলসও কাঁচা পাটের সংকটে আছে বলে জানা গেছে।

কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজেএর সাবেক চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দের কাছে জানতে চাওয়া হয়, দেশীয় কারখানাগুলোকে কাঁচা পাট না দিয়ে তারা বিদেশে রপ্তানি করছেন কেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে পাট আছে শুধু রপ্তানির বিপরীতে। দেশের কারখানাগুলো যদি নগদ টাকায় পাট কিনতে পারে, তাহলে তাদের কাছে বিক্রি করতেও সমস্যা নেই; কিন্তু তারা তো বাকিতে কিনতে চান।’

মণে দেড় হাজার টাকার বেশি বাড়িয়ে দিলে দেশীয় কারখানামালিকেরা কীভাবে কিনবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ আহমেদ আকন্দ বলেন, দাম বেড়ে গেছে এটা ঠিক। আবার পাটকলগুলো ক্রয় আদেশও বেশি পাচ্ছে।

ভারতের চাহিদা মেটাচ্ছে মজুতদারেরা

মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বিজেএমএ ও বিজেএসএ বলেছে, বিজেএর সদস্যদের বিভিন্ন গুদামে মজুত থাকা কাঁচা পাট যৌক্তিক মূল্যে পাটকলগুলোকে সরবরাহ করার বিষয়ে যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নইলে বিজেএমএ ও বিজেএসএ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব পাটকল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

বিজেএসএ চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, দেশীয় পাটকলগুলোকে না দিয়ে ভারতীয় পাটকলগুলোর কাঁচা পাটের চাহিদা মেটাচ্ছে মজুতদারেরা। এটা দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ।

কাঁচা পাট রপ্তানিতে শর্ত আছে জানালে তাপস মজুমদার বলেন, ‘কিছুদিন দমে ছিলেন মজুতদারেরা। এখন তারা নতুন করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং দাম আরও বাড়িয়েছে।’

কমছে পাট খাতের রপ্তানি

দেশের পাটজাত পণ্য রপ্তানি বছর বছর কমছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১১২ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে হয় ৯১ কোটি ১৫ লাখ ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আরও কমে হয় ৮৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার। বিজেএসএ সূত্রে জানা গেছে, বছরে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদিত হয় দেশে। এর মধ্যে পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য লাগে ৬০ লাখ বেল।

পাট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, চীনসহ ১৩টি দেশে ১৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৫ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে। ওই অর্থবছরে ১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বা ১৬ কোটি ৪ লাখ ৮৭ হাজার মার্কিন ডলারের কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে। মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৯ কোটি ডলারের বেশি এসেছে ভারত থেকে।

সূত্র: প্রথম আলো

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়