শিরোনাম
◈ দেশে উৎপাদন সম্ভব, এমন কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী ◈ টাকার বিনিময়ে কল রেকর্ড-লোকেশন বিক্রি, যেভাবে চলত চক্র ◈ ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে: হুমায়ুন কবির ◈ এনসিপির মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা: ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী ◈ চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আনার কথা চলছে: বিমানমন্ত্রী ◈ ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বাণিজ্য অংশীদার এখন যুক্তরাষ্ট্র ◈ মাদরাসা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, বন্ধ হচ্ছে ২৫২টি ◈ আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ ◈ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, একদিনেই ৬ মৃত্যু

প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৩, ১১:১৯ রাত
আপডেট : ২১ মার্চ, ২০২৩, ০৯:৩৩ সকাল

প্রতিবেদক : আরমান হোসেন

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে পাঁচ দফা  দাবিতে রংপুরে সমাবেশ ও গণমিছিল

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে সংহতি সমাবেশ

সালেহ্ বিপ্লব: দেশের উত্তরের জনপদ রংপুরে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো সংহতি সমাবেশ ও গণমিছিল। বিকেলে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

নাগরিক সমাবেশে রংপুরের প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, আইনজীবী, রাজনৈতিক কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আয়োজক সংগঠন জানায়, পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে এটি দ্বিতীয় বিভাগীয় সমাবেশ। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোগে চট্টগ্রামে প্রথম বিভাগীয় সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে।

বিকেল চারটায় সংহতি সমাবেশের উদ্বোধন করেন সমাবেশের সভাপতি অধ্যাপক মোজাহার আলী। জাসদ রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি গৌতম রায়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুল রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহীন রহমান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য নজরুল ইসলাম হক্কানী, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার চুক্তি করে ঠিকই, কিন্তু সেই চুক্তির বাস্তবায়ন আলোর মুখ দেখে না। ২৫ বছর পরেও পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আমাদের লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন বেগবান করতে হবে। সেই সঙ্গে পাহাড় এবং সমতলের আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে হবে। এটি আমাদের অধিকার আদায়ের লড়াই।  

সমাবেশে উত্থাপিত ৫ দফা: 
১.পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচী ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে চুক্তির দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। 
২. পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান করতে হবে।
৩. আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক করা এবং স্থানীয় শাসন নিশ্চিত করতে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক এসব পরিষদের যথাযথ ক্ষমতায়ন করতে হবে। 
৪. পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ও ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুর্নবাসন করে তাদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। 
৫. দেশের মূল স্রোতধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে। 

সমতলের আদিবাসীদের জন্য দাবি:
১. ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরের স্থানীয় সরকারে সমতলের আদিবাসীদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণ এবং আদিবাসী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 
২. সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার থেকে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশ শুরুর আগে বিভিন্ন সংগঠনের খণ্ড খণ্ড মিছিল রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সমবেত হয়। 

  • সর্বশেষ