প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আবারও শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। ফলে পর্যটকদের জন্য খুলে গেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ। এবার দ্বীপে গিয়ে রাত কাটানোরও সুযোগ রয়েছে।
তবে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে যাওয়ার আগেই জাহাজের টিকিট, যাতায়াত খরচ, আবাসন ও প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।
আগেভাগেই সংগ্রহ করুন জাহাজের টিকিট
সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে দেরি না করে জাহাজের টিকিট বুকিং করে নেওয়া ভালো। শেষ মুহূর্তে টিকিটের সংকট এড়াতে ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের পরই টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা করুন।
জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, গ্রাহকসেবা নম্বর কিংবা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে। বুকিংয়ের আগে যাত্রার সময় ও টিকিটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়ে নিন।
কোন কোন জাহাজে যেতে পারবেন
চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে রয়েছে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১, এমভি বারো আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ। ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে কোন জাহাজের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যাতায়াত খরচ কত হতে পারে
জাহাজের টিকিটের মূল্য নির্ভর করবে আসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর। সাধারণ আসন থেকে শুরু করে বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, বেড ও কেবিন—বিভিন্ন শ্রেণির টিকিট পাওয়া যায়।
যাওয়া-আসার জন্য এসব আসনের টিকিটের দাম প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই টিকিট কেনার আগে আসনের সুবিধা, ভাড়া এবং আসন খালি আছে কি না, সেসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
ট্রাভেল পাস নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক। তবে এ জন্য আলাদাভাবে নিবন্ধনের ঝামেলা পোহাতে হবে না।
জাহাজের টিকিট বুকিং সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন ও ট্রাভেল পাসসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানই সম্পন্ন করবে।
আগে থেকেই বুকিং দিন হোটেল বা রিসোর্ট
দ্বীপে রাত কাটানোর পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগেই আবাসন নিশ্চিত করা ভালো। সেন্টমার্টিনে ২৩০টিরও বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। তবে সেখানে পৌঁছে থাকার জায়গা খোঁজার পরিবর্তে যাওয়ার আগেই পছন্দের হোটেল বুকিং দিলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে। আবাসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী হোটেল-রিসোর্টের ভাড়া ভিন্ন হয়ে থাকে।
হোটেল বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে চলমান অফার ও বিশেষ ছাড় সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন।
ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। দ্বীপে প্রবেশের সময় প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি।
ভ্রমণের সময় পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। সৈকতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, রাতে দীর্ঘসময় উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখা কিংবা সৈকতে বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করা থেকে বিরত থাকুন।
এছাড়া সৈকতের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহার না করে বাইসাইকেল বেছে নিতে পারেন।
সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও প্রত্যেক পর্যটকের। তাই ভ্রমণের আনন্দ যেন প্রকৃতির ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।