শিরোনাম
◈ ইউরোপজুড়ে রাজপথে জেন-জি, কেন বাড়ছে তরুণদের ক্ষোভ? ◈ আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা ◈ নিলামে শরিফুলকে পেতে ২ কোটি ৩০ লাখ সিটিজেনস ব্যাংকের, তাসকিনকে ওয়ালটনের ২ কোটি ১০ লাখ  ◈ অ‌স্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজ, খেলবেন রিশাদও ◈ জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে যাত্রী সংকটে আঞ্চলিক বিমানবন্দর ◈ ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রারকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি ◈ নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত? ◈ তানজিম সাকিবের নাম তোলা হয়‌নি ডি থ্রি ট্রফির নিলামে ◈ খাদ্যশস্য সংরক্ষণে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৩৩ রাত
আপডেট : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৩৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাতিয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তির আশ্বাসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর হাতিয়ায় শিক্ষককে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করে বেতন-ভাতা চালু করে দেওয়ার আশ্বাসে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নন্দকুমার গার্লস হাইস্কুলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা আকরাম উদ্দিন রনির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ফাইল পাঠানো ও তদবিরের কথা বলে আরও দুই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস। সব মিলিয়ে চাকরি ও এমপিওভুক্তির নামে ১০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও দীর্ঘ সময়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন এই শিক্ষক। 

সম্প্রতি টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইতে গেলে একপর্যায়ে তাকে চাকরিচ্যুত ও মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকরাম উদ্দিন রনি হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নন্দকুমার গার্লস হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হন। অভিযোগকারী লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস বিদ্যালয়টির গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক। তার দাবি, ২০২০ সালের ১৪ জুন তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তবে বিদ্যালয়টি জুনিয়র পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় যোগদানের পর থেকে তিনি বেতন-ভাতা বা এমপিও সুবিধা পাচ্ছেন না।

লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস ও রেহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাস তাকে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি আকরাম উদ্দিন রনিকে ‘ম্যানেজ’ করতে হবে বলে জানানো হয়। পরে আকরাম উদ্দিন রনির বাসায় গেলে এমপিওভুক্তির জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

Advertisement

তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ২০২৫ সালের ১ মে এক লাখ টাকা এবং ৬ জুন চার লাখ টাকা তুলে দেন আকরাম উদ্দিন রনির হাতে। টাকা দেওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন। এ লেনদেনের ভিডিও তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া ফাইল পাঠানো ও তদবিরের কথা বলে প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস এবং রেহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাস পৃথকভাবে আরও তিন লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন লক্ষ্মণ। চাকরিতে নিয়োগের সময়ও প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীরা লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর।

অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা দেওয়ার প্রায় এক মাস পর তার এমপিওভুক্তির ফাইল বাতিল হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার ৯.৪ অনুচ্ছেদের ‘ক’ অনুযায়ী, তার পদটি মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করার সুযোগ নেই। এরপর টাকা ফেরত চাইলে জগদীশ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ফেরত পান বলে জানান লক্ষ্মণ। তবে আকরাম উদ্দিন রনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত ও মারধরের হুমকি দেওয়ার কথাও জানান এই শিক্ষক।

বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগটি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আব্দুল জলিল, আকতার হোসেন ও কবির উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকতা করছেন। প্রায় ১০ বছর ধরে বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালনের পর এমপিওভুক্তির আশ্বাসে টাকা দেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে নন্দকুমার গার্লস হাইস্কুলের সাবেক সভাপতি আকরাম উদ্দিন রনি বলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়ে শুরুতে আমি কিছুই জানতাম না। তারা কাগজপত্র নিয়ে এসে আমাকে বলেছে, ফাইলে স্বাক্ষর করে দিলে তার বেতন-ভাতা চালু হবে। এর জন্য বিভিন্ন খাতে খরচ আছে। তখন সে যে টাকা দিয়েছে, আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষকসহ সবাইকে ভাগে ভাগে দিয়ে দিয়েছি। তবে কার কাছে কত টাকা দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস বলেন, আমি লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসকে নিষেধ করেছি এ বিষয়ে কোনো টাকা-পয়সা খরচ না করতে। কিন্তু সে নিজের মতো করে এসব কাজ করেছে। আমি কোনো টাকা-পয়সা গ্রহণ করিনি। সে সভাপতিকে টাকা দেওয়ার সময় আমাকে ডেকে নিয়ে গেছে। এর বাইরে আমি কিছুই জানি না।এ বিষয়ে রেহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নন্দকুমার গার্লস হাইস্কুলের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু ছায়েদ এমরান বলেন, নিয়োগকালীন সময় থেকে লক্ষ্মণকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিরা। এখন যা-ই হোক, ভুক্তভোগী শিক্ষক লক্ষ্মণ দাসের দেওয়া টাকাগুলো ফেরত পাওয়া উচিত।

এ ঘটনায় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, টাকা লেনদেনের ভিডিও যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয়রা। 

  • সর্বশেষ