শিরোনাম
◈ ইউরোপজুড়ে রাজপথে জেন-জি, কেন বাড়ছে তরুণদের ক্ষোভ? ◈ আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা ◈ নিলামে শরিফুলকে পেতে ২ কোটি ৩০ লাখ সিটিজেনস ব্যাংকের, তাসকিনকে ওয়ালটনের ২ কোটি ১০ লাখ  ◈ অ‌স্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজ, খেলবেন রিশাদও ◈ জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে যাত্রী সংকটে আঞ্চলিক বিমানবন্দর ◈ ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রারকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি ◈ নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত? ◈ তানজিম সাকিবের নাম তোলা হয়‌নি ডি থ্রি ট্রফির নিলামে ◈ খাদ্যশস্য সংরক্ষণে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৯ রাত
আপডেট : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দখলদারের কবলে ফেনীর ফরহাদ নগরে সরকারি দিঘি

এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী প্রতিনিধি : ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগরে দখলদার মো. বাহার উল্ল্যাহ বাহার প্রকাশ বন্দুক বাহারের দখলে সরকারি দুইটি দিঘি ও একটি জলাশয়। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফরহাদনগর ইউনিয়নের কেএমহাটে আদর্শগ্রাম সড়কের তীর ঘেঁষে দুই পাশে ১৭ দশমিক ৩৪ একরের এসব বিশাল দিঘি তিনি দখল করে মাছ ও মাটি লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন। মো. বাহার উল্লাহ বাহার প্রকাশ বন্দুক বাহার মধ্যম নৈরাজপুর সৈয়দ হাজী বাড়ির হাবিব উল্যাহর ছেলে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে সদস্য পদে ওই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ৪ আগস্ট মহিপালে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক চুরি-ডাকাতি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফরহাদনগর ইউনিয়নের কেএমহাটে কেএমহাট-আদর্শগ্রাম সড়কের পাশে নৈরাজপুর মৌজায় দুইটি দিঘি ও একটি জলাশয় রয়েছে। একসময় এখানে নদী ছিলো। সেখানে পরে তা দিঘিতে রুপান্তর হয়। বিশাল আকৃতির একটি দিঘি থাকলেও দখলদাররা চারটি দিঘিতে রুপান্তর করে। এরমধ্যে একটি দিঘি ছাগলনাইয়া উপজেলার দৌলতপুর মৌজায় পড়েছে। বাকিগুলো পড়েছে ফরহাদ নগরের নৈরাজপুর মোজায়। এরমধ্যে একটি ছোট। সেসব দিঘি এখন বন্দুক বাহারের দখলে।

তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক আ’লীগ নেতার দখলে ছিলো এসব দিঘি। তিনি এসব দিঘিতে মাছ চাষ করতেন। তখন জিজ্ঞেস করলে ইজারার মাধ্যমে করছেন বলে দাবি করতেন। ৫ আগস্টের পর এসব দিঘি মো. বাহার উল্যাহ বাহার প্রকাশ বন্দুক বাহারের দখলে চলে যায়। বাহারের দখলে যাওয়ার পরে তিনি এসব দিঘি থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যান। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এসব দিঘি দেখেন। বেশ কয়েকবার সেচ দিয়ে কয়েক লাখ টাকার মাছও নিয়ে যান বাহার। এরমধ্যে গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এসব মাটি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

Advertisement

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেএমহাট থেকে আদর্শগ্রাম যাওয়ার পথে দুই পাশে চারটি দিঘি। এরমধ্যে প্রবেশ প্রথম দিঘিতে সেচ দিচ্ছেন বাহার। পাশের আরেকটি দিঘি থেকে শ্রমিক দিয়ে পিক-আপে মাটি ভর্তি করা হচ্ছে। এসব মাটি আবার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে গত কয়েদিন পাশের বড় দিঘি থেকেও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি নিশ্চিত করেছেন।

এসব দিঘি ইজারা দেওয়া নেই জানিয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল মনসুর জানান, ১শ ২৭ নং নৈরাজপুর (বিএস) মৌজায় ১নং খতিয়ানে তিন দাগে ১৭ দশমিক ৩৪ একর জায়গা রয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ১শ ৫২ দাগে ৪ দশমিক ৬৩ একর,১ হাজার ১শ ৮০ দাগে ৩ দশমিক ৮১ একর ও ১ হাজার ৩শ ৫৮ দাগে ৮ দশমিক ৯০ একর জায়গা রয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাহার উল্যাহ বাহার বলেন,‘ আমি ইজারা নিয়ে এসব দিঘি দেখাশোনা করি। আমি প্রতি বছর ২৫ হাজার টাকা কর দিয়ে থাকি৷ আমি দখল কেন করবো। আর এসব মাটি সড়ক ও পাড়ের সংস্কারে ব্যবহার করছি। বাহিরে যেগুলো যাচ্ছে সেগুলো কবরস্থানের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূৃমি) ফাহমিদা আক্তার বলেন,‘আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, "নৈরাজপুর মৌজায় নদী ভরাট এবং সরকারি বা জনস্বার্থের জলাশয় অবৈধভাবে ভাগ করে দখল বা রূপান্তর করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি সরকারি সম্পত্তি বা নদী-জলাশয় দখল বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে আইনগতভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ