কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সর্বদক্ষিনের প্রেমবাজারের ব্যবসায়ী মো.এহসান প্রকাশ হাসান (৩৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয় দিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়ার ৪৮ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোন হদিস মিলেনি। ফলে পরিবার পরিজনের মধ্যে শংকা বিরাজ করছে।
অপরদিকে নিখোঁজ ব্যবসায়ী মো.এহসান প্রকাশ হাসানকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীও সমাজের লোকজন মানববন্ধন ও সংবাদ সস্মেলনের আয়োজন করলে ও পরে অজ্ঞাত কারণে স্থগিত করা হয়।
সুত্র মতে,পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার তেরিয়াকাটা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজী নুরুল কবিরের ছেলে প্রেমবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ এর মালিক মো.এহসান প্রকাশ হাসানকে শনিবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে তাঁর নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে অবহিত করে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজার পর ও কোন সন্ধান পায়নি।
এদিকে বাবার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁর দুই অবুঝ সন্তান আবদুল্লাহ ও আলিমা। স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী উন্মে সায়মা আক্তার।
এহসানের বড় ছেলে মো. আব্দুল্লাহর বয়স ১২ বছর। সে স্থানীয় একটি নুরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করে। ছোট মেয়ে আলিমার বয়স মাত্র তিন বছর। বাবার অনুপস্থিতিতে শিশু দুটি কী ঘটেছে, তা পুরোপুরি বুঝে উঠতে না পারলেও বাবাকে কাছে না পেয়ে অস্থির হয়ে উঠছে। অন্যদিকে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও স্বামীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এহসানের ছোট ভাই মো. হোসাইন বলেন, ‘দুই দিন পার হয়ে গেলেও আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। তাঁকে উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চাই। ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমাদের পরিবারে হাহাকার চলছে। মা-বাবা ও তাঁর সন্তানদের উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভাইকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’
এহসান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার তেলিয়াকাটা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজী নুরুল কবিরের মেজো ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর বড় ভাই আবুল কাশেম। এহসানের আরেক ভাই রবি আলম। তাঁর ছোট ভাই মো. হোসাইন ব্রাজিলপ্রবাসী বর্তমানে দেশে আছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার পর দেশে ফিরে প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেন এহসান। ঘটনার দিনও তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।
এদিকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের সদস্য ও ব্যবসা প্রতিষ্টানের ম্যানেজারের ওয়ার্টঅ্যাপ নম্বরে কল দিয়ে টাকা দাবীর কথা উঠলে ও সেটা নিশ্চিত করেনি প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্টরা।
বাঁশখালী থানার অফিসার (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাসান এর সন্ধান পেতে সকল ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে । ইতিমধ্যে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ সহ হাসানের সঠিক স্থান বিষয়টি উৎঘটন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলে তিনি জানান।
নিখোঁজ ব্যবসায়ী মো.এহসান প্রকাশ হাসানকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।