হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার কার্যক্রম বেগবান করতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও অগ্রগতি প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলামের পাঠানো আধা-সরকারি পত্রের (ডিও লেটার) পেছনের একটি চিঠির আলোকে গত ৭ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এর আগে গত ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বরাবর এক চিঠিতে শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই এর আয়তন ১৭.৩৮ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৬৬.৫৪ বর্গকিলোমিটার এবং ওয়ার্ড ৯টি থেকে ২৭টিতে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৬তম সভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হলেও শর্ত হিসেবে 'বিভাগীয় সদর দপ্তর' স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চিঠিতে যুক্তিতে দেখান— সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯ ও বিধিমালা ২০১০ অনুযায়ী বিভাগীয় সদর দপ্তর হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ইতোমধ্যেই গাজীপুর, কুমিল্লা ও নারায়নগঞ্জ বিভাগীয় সদর না হয়েও সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পেয়েছে। এমনকি নিকারের ১২০তম সভায় বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও কক্সবাজারের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রেও এই শর্ত প্রযোজ্য হয়নি।
চিঠিতে তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের জনসভায় তৎকালীন বিএনপি নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসলে ফরিদপুরকে দ্রুততম সময়ে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও 'এমপিদের প্রতিশ্রুত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল'-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেনের সাক্ষরিত এক পত্রে স্থানীয় সরকার সচিবকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই আদেশের পর বহুল কাঙ্ক্ষিত ফরিদপুর সিটি করপোরেশন বাস্তবায়নের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।