নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কবিরহাটে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে 'হাত-পা' ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়া'সহ হুমকি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ শহিদ।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন.এম নাসিরুদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সাংবাদিক মোহাম্মদ শহিদ।
লিখিত অভিযোগে সাংবাদিক মোহাম্মদ শহিদ উল্লেখ করেন, তিনি দৈনিক জনবাণীর নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর তার কর্মরত গণমাধ্যমের অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘নোয়াখালীর কবিরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সংবাদটি জাতীয় দৈনিক জনবাণীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সংবাদে কবিরহাটের স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের জসিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এরপর থেকেই ওই সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ হন অভিযুক্ত নেতা ও তার অনুসারীরা।
সাংবাদিক মোহাম্মদ শহিদের অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কবিরহাট থানা সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে প্রকাশ্যে তাকে অশ্রাব্য ও শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষায় গালিগালাজ করেন বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের জসিম। একপর্যায়ে তিনি তাকে হাত-পা ভেঙে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া'সহ প্রাণে হত্যার হুমকি দেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ মানুষ বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। এরপর থেকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক শহিদ। এ অবস্থায় স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ও নিজের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় অভিযুক্ত আব্দুল কাদের জসিমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের জসিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ সুপার এন.এম নাসিরুদ্দিন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।