মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুফতি ইব্রাহিম নামের ওই শিক্ষককে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে মাদ্রাসাটির হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের মৃত রুমান মিয়ার ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা আব্দুল্লাহর চাচাকে বিয়ে করেন। মুফতি ইব্রাহিম আব্দুল্লাহর খালু। তাঁর মাধ্যমে আব্দুল্লাহকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে আব্দুল্লাহ মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে যায়। পরদিন সকালে মুফতি ইব্রাহিম তাকে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন। এরপর তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিমকে অবরুদ্ধ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে মুফতি ইব্রাহিম বলেন, আব্দুল্লাহকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসার কারণে তিনি রাগান্বিত হয়ে তাকে মারধর করেন। ‘শাসনটা অতিরিক্ত হয়ে গেছে। আমি আমার ভুল স্বীকার করছি।’
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মহিউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক যেভাবে ছাত্রকে নির্যাতন করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আব্দুল্লাহর মা বলেন, তিনি এ ঘটনায় মামলা করতে চান না; স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চান।
নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’