শিরোনাম
◈ আকুর ১৩৯ কোটি ডলারের বিল পরিশোধ, রিজার্ভ আবার ৩৬ বিলিয়ন ডলারে ◈ কনটেইনারে কোনো পণ্য নেই, কাগজপত্রে দেখানো সাড়ে ৫ কোটি টাকার রপ্তানি ◈ সংসদে চার গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটি গঠন, নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য ◈ বাংলাদেশের ট্রেনে স্টারলিংক: ৬০ রাউটারের ৪৫টিই চুরি, উপবন এক্সপ্রেসের অ্যানটেনাও উধাও ◈ যে কারণে হিজড়া ‘গুরুমাকে’ হত্যা করা হয়, জানালেন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকা ওই যুবক ◈ বহিষ্কৃত এমপিকে কমিটিতে রাখা নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক, শেষমেশ নাম বাদ ◈ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে কমছে দাম, বাড়ছে ব্যয় ◈ অন্তর্বর্তী সরকারের হামের টিকার ভুল দরপত্র নীতিতেই শিশুদের প্রাণহানি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ বন্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণে জোর: অটোরিকশায় আসছে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ◈ ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের’ নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সংসদে

প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৮ রাত
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিতলমারীর মাটি ড্রেজারের পাইপে চুষে যাচ্ছে!

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলঘেঁষা বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বলগেট ও ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার পরও থামছে না এই বালু উত্তোলন। এতে নদীতীরবর্তী জনপদে দেখা দিয়েছে মাটি দেবে যাওয়ার আশঙ্কা; হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, সড়ক, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভের বেলেমাটি চুষে তোলা হচ্ছে। এসব ড্রেজারের মাধ্যমে মাটির গভীরে পাইপ ঢুকিয়ে প্রথমে পানি দিয়ে বেলেমাটি ভেজানো হয়। পরে আরেকটি পাইপ দিয়ে পানি মেশানো বালু-মাটি চুষে ওপরে তুলে নেওয়া হয়। ফলে ভূগর্ভের মাটি ফাঁপা হয়ে বিভিন্ন স্থানে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের ড্রেজারকে স্থানীয়রা ‘আত্মঘাতী ড্রেজার’ বলে অভিহিত করছেন। তাঁদের দাবি, এসব মেশিন দিয়ে খড়মখালী, পাঙ্গাশিয়া, নালুয়া, পিঁপড়াডাঙ্গাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এর ফলে সরকারি রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

ছোট খালে বড় বলগেট, ঢেউয়ে ভাঙছে পাকা সড়ক

অন্যদিকে চিতলমারী সদর বাজারসংলগ্ন ছোট খালে বিশাল আকৃতির বলগেট দিয়ে বালু পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব বলগেট চলাচলের সময় সৃষ্ট ঢেউয়ের তোড়ে বাবুগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী বাজার পর্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সড়ক দুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শুধু সড়ক নয়, বলগেটের ধাক্কায় বোয়ালিয়া-খলিশাখালী লোহার পুলটি হেলে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে শেরে বাংলা কলেজ জামে মসজিদসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নবীর সরদার ও কামাল মেম্বারের বলগেট দিয়ে লাইসেন্স ও রুট পারমিট ছাড়াই বালু পরিবহন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চরকুড়াতলা এলাকার বিভিন্ন কৃষিজমি ও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে নবীর সরদার দাবি করেছেন, তাঁর ট্রলার ও বলগেটের প্রয়োজনীয় রুট পারমিট ও লাইসেন্স রয়েছে এবং বলগেটে বালু পরিবহন অবৈধ নয়।

প্রতিকারে অর্ধশত মানুষের আবেদন

অবৈধ ড্রেজার ও বলগেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নদী-খাল ও সড়ক রক্ষার দাবিতে উপজেলার অর্ধশতাধিক মানুষ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।

আবেদনকারী বাশার খান, মো. জসিম শেখ ও মো. রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা বলেন, “লাইসেন্স ও রুট পারমিটবিহীন অবৈধ বলগেট ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাকা গ্রামীণ সড়ক ও মসজিদ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

তাঁরা আরও বলেন, যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নদী ও খালের তীর রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।

প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, “ভূগর্ভের বালি বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও সরেজমিন পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত অবৈধ ড্রেজার ও বলগেটের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও পুল রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ এবং নদী-খালের তীর সংরক্ষণে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, অবৈধভাবে ভূগর্ভের বালু উত্তোলন ও ছোট খালে বড় বলগেটের চলাচল অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হয়ে বসতভিটা, কৃষিজমি ও সরকারি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। তাই সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

  • সর্বশেষ