তপু সরকার হারুন, শেরপুরঃ শেরপুরে সার এর কোন সংকট নেই সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পেয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত কৃষক। শেরপুর সদর উপজেলার প্রায় ১৪ ইউনিয়নেই বর্তমানে বিসিআইসি এবং বিএডিসি ও খুচরা ডিলারদের মাঝে সঠিক ভাবে সার বন্টন ও সরকারী নির্ধারিত দামেই সার পাচ্ছে কৃষকরা।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা কৃষিঅফিসার মুসলিমা খানম নীলু বলেন আমাদের এবার শেরপুর সদর উপজেলায় ২৫/২৬ অর্থ্ বছরে আমন আবাদের টার্গেট হচ্ছে ২৪৭৩০ একর জমিতে। আমরা আগষ্ঠ মাসে বরাদ্ধ পেয়েছি ইউরিয়া ১৯০ মেট্রিক টন টিএসপি-১৫৭ মেঃটন ডিএপি ৫৬৭ মেঃটন এবং এমওপি ২৬৭ মেট্রিক টন।
এই সারটা যেন কৃষক সঠিক সময়ে ন্যায্য মূল্য পায় । এখানে মোট ৭০জন ডিলার রয়েছে , ১৫ জন বিসিআইসি এবং ৫৫জন বিএডিসি ডিলার । এখানে ৪৩ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন এবং বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। উনারা বসে থেকে কৃষক ভাইয়েরা যেন ন্যায্য মূল্য সার পায় সেটা নিশ্চিত করতে পারে ।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায় চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের বাগলগড়, টাকিমারী, ধানুরপাড়া, নন্দীরজোত, কৃষক করিম মিয়া, রাশেদ আলম ,মোস্তুফা আলম জানান-এবার আমন আবাদে আমরা নিয়মিত খুচরা ডিলার দের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনেছি । এখানে ট্যাক অফিসার উপস্থিত থেকে আমাদের মাঝে সার বিতরন করছে ।
৩১ আগষ্ঠ বলাইয়েরচর এর ফকিরগন্জ বাজারে গেলে স্থানীয় কৃষকগন ডিলার মেসার্স্ মান্নান ট্রেডার্স্ থেকে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার উপস্থিতিতে সরকারী নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও টিএসপি সার কিনতে দেখা যায়।
২ সেপ্টেম্বর বুধবার চরমোচারিয়ার বিল্লাল হোসেন কে ভ্যানে করে সার নিয়ে যাওয়া অবস্থায় –তার গাড়ী দার করিয়ে সারের দাম জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন ভাই এবার আমন চাষে কৃষি অফিসার দের কঠর নজর দারি এবং সাংবাদিকদের বিশেষ মনিটরিং এ আমরা প্রয়োজন মতো সার সরকারী নির্ধারিত দামে পাইতাছি।
গাজির খামার কাওয়াপেচী এলাকার কৃষক আসাদ জানান- বর্তমানে শেরপুরে আমাদের কোন সার সংকট নেই,একটি রাজনৈতিক মহল সরকার কে সার সংকটের কথা বলে (গুজব) ছড়াচ্ছে।
কামারিয়ার বারঘরিয়া এলাকার কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন আমাদের এলাকায় প্রচুর কৃষিজমি এখানে বেশীরভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল -এবার আমন চাষে আমাদের এখানে সারের কোন সংকট নেই। তারাকান্দি, ভীমগন্জ, সূযর্দী বাজার থেকে সরকারী নির্ধারিত মূল্যে আমরা সার পাচ্ছি।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডিলারদের সাথে কথা হলে তারা বলেন শেরপুরে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং একটি মহল অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করেন। তারা আরো বলেন শেরপুর একটি কৃষি নির্ভরশীল জেলা- এখানে ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। মাঠপর্যায়ে আমাদের প্রত্যেকটা কৃষিসম্প্রসারণ ও কৃষকদের সেবা প্রদানের মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিনিধি- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়োগকৃত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ট্যাগ) অফিসারের উপস্থিত থেকে সার বিক্রয় করছে । প্রত্যান্ত এলাকায় সাধারন কৃষক -প্রান্তিক চাষি সহ সঠিক সময়ে সরকারী নির্ধারিত দামেই সার পাচ্ছে কৃষক। রোপা আমন মৌসুমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শেরপুরের সাধারন কৃষকরা। প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারির কারণে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে শেরপুর জেলা কৃষিসম্প্রাসারন অধিদপ্তর যায়যায় দিন কে বলেন শেরপুরে সারের কোন কৃত্রিম সংকট নেই।
এ মুহূর্তে যত সারের চাহিদা আছে, তারচেয়ে বহুগুণ সার গোডাউনে মজুদ আছে।
এ-বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক বলেন-সরকারী বরাদ্ধ মোতাবেক শেরপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সার চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজন মত কৃষক তাদের সার পাচ্ছে।
সারের কোন সংকট নেই। বন্টন এবং তদারকির জন্য আমরা ইতিমধ্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছি এবংআমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রয় করা হচ্ছে, এবং কোথাও যদি কোন অনিয়ম পাই তাহলে সাথে সাথে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি । ইতিমধ্য আমরা দুটি দোকানে ক্যাশমেমো ঠিক না থাকায় সেখানে আমরা ভ্রাম্যমাণআদালতের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি । এখন পযর্ন্ত নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে সার বিক্রয় করেছে এ-ধরনের অভিযোগ আমরা পায়নি।
শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য অনুরুধ করেন।